মুর্শিদাবাদ, ২০ আগস্ট:
শুধু ইকবাল হোসেন নন, তাঁর দিদি এবং বোনেরাও একইভাবে দিনের পর দিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভেসে থাকেন পুকুরের জলে। জানা গিয়েছে, তাঁদের শরীরেও ঠিক একই রকমের তীব্র জ্বালাযন্ত্রণা অনুভূত হয়। সেই অসহ্য জ্বালা থেকে সাময়িক স্বস্তি পেতে সকাল-বিকেল যখন-তখন পুকুরে নেমে গলা পর্যন্ত জলে ডুবে থাকতে বাধ্য হন তাঁরাও। সম্প্রতি ইকবালের জলে ভেসে থাকার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর মুম্বইয়ের হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা হয়েছে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে নিজেদের তিন মেয়ের ভবিষ্যৎ ও স্বাস্থ্য নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন ইকবালের জেঠিমা। চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করলেও বিপুল খরচ কোথা থেকে জোগাড় হবে, তা ভেবেই কূলকিনারা পাচ্ছেন না তিনি।
মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার বড়ুয়ার ফরাজিপাড়া গ্রামে ইকবালদের বাড়ির ঠিক পাশেই রয়েছে তাঁর জেঠুর বাড়ি। প্রায় চার বছর আগে জেঠু প্রয়াত হয়েছেন। বর্তমানে তিন মেয়েকে নিয়ে ওই বাড়িতেই বসবাস করেন বছর বিয়াল্লিশের গুলশন। তিনি জানিয়েছেন, ইকবালের মতোই তাঁর তিন মেয়েরও শরীরে তীব্র গা জ্বালা করে। যার কারণে সকাল হোক বা বিকেল, যখন-তখন তাঁরা পুকুরের জলে নেমে পড়েন। সারাদিনে কতবার যে তাঁরা স্নান করেন, তার কোনো সঠিক হিসাব নেই। আর বারবার এবং দীর্ঘ সময় জলে থাকার কারণে মেয়েদের এখন মারাত্মক শ্বাসকষ্টের সমস্যাও দেখা দিচ্ছে।
গুলশন জানান, তাঁর তিন মেয়ে এবং এক ছেলে রয়েছে। ছোটবেলায় তিন মেয়ে একেবারেই সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিলেন। কিন্তু বয়স ১০ থেকে ১২ বছর পেরোতেই তাঁদের শরীরে এই ধরনের অস্বাভাবিক শারীরিক লক্ষণ ধরা পড়তে শুরু করে। শারীরিক এই সমস্যার পাশাপাশি ধীরে ধীরে তাঁদের শরীরের ওজনও অস্বাভাবিক হারে বাড়তে থাকে। বর্তমানে তিন মেয়ের প্রত্যেকের ওজন একশো কেজিরও বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে। গুলশন ভালোভাবেই জানেন যে মেয়েদের অবিলম্বে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু পরিবারের চরম আর্থিক অনটনের কারণে সেই চিকিৎসা করানো তাঁদের পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠছে না।
সংসার ও আয়ের বিষয়ে গুলশন জানান, তিনি স্থানীয় একটি বেসরকারি মাদ্রাসায় পরিচারিকার কাজ করেন। সেখান থেকে মাসে মাত্র তিন হাজার টাকা উপার্জন হয়। সেই সামান্য টাকায় কোনোমতে দিন গুজরান হয় তাঁদের। আত্মীয়স্বজন এবং এলাকার প্রতিবেশীরাও মাঝেমধ্যে কিছুটা সাহায্য করেন। কিন্তু তিন মেয়ের জটিল রোগের চিকিৎসার বিপুল খরচ কীভাবে চালাবেন, তা নিয়ে চরম অসহায় হয়ে পড়েছেন তিনি।
মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার ১৭ বছর বয়সি কিশোর ইকবাল শেখের বিরল এই শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দুশ্চিন্তায় ছিলেন পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে তাঁর গলা পর্যন্ত জলে ভেসে থাকার একাধিক ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সেই ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পরই বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করে রিলায়েন্স গ্রুপ। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর অনন্ত অম্বানীর তৎপরতায় ইকবালকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মুম্বইয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে স্যর এইচএন রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন হাসপাতালে বর্তমানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, ভিডিও ভাইরাল হওয়ার কল্যাণেই ইকবালের মুম্বইয়ে চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এবার ইকবালের অসুস্থ দিদি-বোনেরাও যাতে একইভাবে কোনো সহৃদয় ব্যক্তি বা সংস্থার সহায়তায় উন্নত চিকিৎসা পান, সেই আশাতেই দিন গুনছেন পরিবার ও এলাকার মানুষ।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

