বেঙ্গালুরুর ফুটপাথগুলোকে দখলমুক্ত করার লক্ষ্যে প্রশাসন এক বড়সড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তবে এই পদক্ষেপ পথচারীদের জন্য স্বস্তি আনলেও, শহরের হাজার হাজার পথচলতি হকার বা স্ট্রিট ভেন্ডরদের জীবনে চরম বিপর্যয় ডেকে এনেছে। কারণ এই উচ্ছেদ অভিযানের ফলে তাঁদের একমাত্র উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ‘দ্য নিউজ মিনিট’ (The News Minute)-এর একটি বিশেষ ভিডিও প্রতিবেদন অনুসারে, এই উচ্ছেদের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ শুরু করেছেন ভুক্তভোগী হকাররা।
‘গ্রেটার বেঙ্গালুরু অথরিটি’ (Greater Bengaluru Authority) পুরো শহরজুড়ে একটি বিশেষ অভিযান শুরু করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে “সেফ ফুটপাথ ক্যাম্পেইন” বা “নিরাপদ ফুটপাথ অভিযান”। এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য হলো বেঙ্গালুরুর প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার রাস্তা ও ফুটপাথ থেকে সমস্ত ধরণের অবৈধ দখলদারি হঠানো। এর আওতায় ফুটপাথে থাকা হকারদের ঠেলাগাড়ি (pushcarts), বিভিন্ন অস্থায়ী কাঠামো এবং ব্যবসার অন্যান্য সামগ্রী ও সরঞ্জাম সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দাবি, পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জনসাধারণের হাঁটার জায়গা পুনরুদ্ধার করার জন্যই এই চিরুনি তল্লাশি ও উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে। বেঙ্গালুরুর মতো জনবহুল শহরে ফুটপাথ দখল হয়ে যাওয়ার কারণে পথচারীদের বাধ্য হয়ে মূল রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হয়, যা প্রায়শই বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
তবে প্রশাসনের এই যুক্তি মানতে নারাজ আন্দোলনকারী হকাররা। ‘দ্য নিউজ মিনিট’-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, উচ্ছেদ হওয়া বহু হকার প্রশাসনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের দাবি, কোনো আগাম নোটিশ (prior notice) না দিয়েই তাঁদের হঠাৎ করে উচ্ছেদ করা হয়েছে। এমনকি তাঁদের জন্য কোনো বিকল্প জায়গা বা পুনর্বাসনের (rehabilitation) ব্যবস্থাও করা হয়নি।
আন্দোলনকারীদের মতে, প্রশাসনের এই আকস্মিক পদক্ষেপ দেশের ‘স্ট্রিট ভেন্ডরস অ্যাক্ট’ বা হকার সুরক্ষা আইনের সম্পূর্ণ লঙ্ঘন। আইন অনুযায়ী, হকারদের উচ্ছেদ করার আগে তাঁদের পুনর্বাসন দেওয়া এবং নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে নোটিশ দেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু বেঙ্গালুরুর এই অভিযানে সেই আইনি প্রক্রিয়াকে তোয়াক্কা করা হয়নি বলে হকারদের অভিযোগ।
এই উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে বর্তমানে বেঙ্গালুরুতে একটি বৃহত্তর বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে রয়েছে শহরের আধুনিক নগর পরিকল্পনা (urban planning) ও জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ও নিরাপদ জায়গার অধিকার, আর অন্যদিকে রয়েছে হাজার হাজার দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত হকারদের জীবিকার অধিকার।
শহরের একটি বড় অংশ মনে করছেন যে, ফুটপাথ পরিষ্কার করা অত্যন্ত জরুরি হলেও, যারা প্রতিদিনের উপার্জনের ওপর ভিত্তি করে বেঁচে থাকেন, তাঁদের এভাবে রাতারাতি উচ্ছেদ করা অমানবিক। এই হকাররা মূলত দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভর করে সংসার চালান, ফলে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁরা পরিবার নিয়ে চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন। প্রশাসন যদি দ্রুত এই হকারদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে, তবে এই প্রতিবাদের আগুন আরও ছড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

