সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির সংখ্যা বৃদ্ধির বিল লোকসভায় পেশ, হট্টগোলের মধ্যেই শুরু হলো প্রক্রিয়া

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির সংখ্যা বৃদ্ধির বিল লোকসভায় পেশ, হট্টগোলের মধ্যেই শুরু হলো প্রক্রিয়া

নতুন দিল্লি, ২০ জুলাই:সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির সংখ্যা বৃদ্ধির বিল লোকসভায় পেশ, হট্টগোলের মধ্যেই শুরু হলো প্রক্রিয়া
দেশের শীর্ষ আদালতে ক্রমবর্ধমান মামলার জট কমাতে এবং বিচারব্যবস্থার গতি ত্বরান্বিত করতে লোকসভায় পেশ করা হলো ঐতিহাসিক বিল। সোমবার সংসদের চলমান মনসুন সেশনের (Monsoon Session) কার্যতালিকা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল ‘সুপ্রিম কোর্ট (বিচারপতি সংখ্যা) সংশোধন বিল, ২০২৬’ (The Supreme Court (Number of Judges) Amendment Bill, 2026) উত্থাপন করেন। বিরোধী সাংসদদের তীব্র হট্টগোল ও শোরগোলের মাঝেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বিলটি সংসদে পেশ করা হয়।
মূলত চলতি বছরের মে মাসে রাষ্ট্রপতির দ্বারা জারি হওয়া একটি অর্ডিন্যান্স বা অধ্যাদেশকে আইনগত স্বীকৃতি দিতেই এই বিলটি আনা হয়েছে। ওই অধ্যাদেশের মাধ্যমেই সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির সংখ্যা বাড়ানোর প্রাথমিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। প্রস্তাবিত এই আইনটি পাস হয়ে গেলে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের অনুমোদিত বিচারপতির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে প্রধান বিচারপতি সহ মোট ৩৮ জনে দাঁড়াবে।

আইন মন্ত্রক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা মামলার পাহাড় এবং বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের শীর্ষ আদালতে বিচারাধীন বা পেন্ডিং মামলার সংখ্যা ৯২ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ মামলার সঠিক নিষ্পত্তি এবং পুরোনো জটিল মামলাগুলোর দ্রুত শুনানির জন্য আরও বেশি সংখ্যক বিচারপতির প্রয়োজন অনুভূত হচ্ছিল।
প্রস্তাবিত বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ দর্শানোর বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, বিচারপতির সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে প্রধান বিচারপতি নিয়মিতভাবে ও বড় মাপের সাংবিধানিক বেঞ্চ (Constitution Benches) গঠন করতে সক্ষম হবেন। এর ফলে আইনি জটিলতা সংক্রান্ত বড় প্রশ্নগুলো দ্রুত মীমাংসা করা সহজ হবে এবং সামগ্রিক বিচারব্যবস্থার দক্ষতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

এর আগে চলতি বছরের মে মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির সংখ্যা চারজন বাড়ানোর প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়। সেই সময় প্রধান বিচারপতি বাদে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির সংখ্যা ৩৩ থেকে বাড়িয়ে ৩৭ জন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা প্রধান বিচারপতিকে যুক্ত করলে মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৮। সেই অর্ডিন্যান্সের মেয়াদ আইনগতভাবে টিকিয়ে রাখতে এবং স্থায়ী রূপ দিতেই বর্তমান সংসদ অধিবেশনে এই বিলটি আনা হয়েছে।
সংবিধানের ১২৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দেশের সংসদ আইনের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির সংখ্যা নির্ধারণ করে থাকে। সর্বশেষ ২০১৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছিল। তৎকালীন সময়ে বিচারপতির সংখ্যা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৩৩ (প্রধান বিচারপতি বাদে) করা হয়েছিল। দীর্ঘ সাত বছর পর ফের একবার শীর্ষ আদালতের পরিকাঠামো সম্প্রসারণের এই উদ্যোগ নেওয়া হলো।

বিলটির সঙ্গে সংযুক্ত আর্থিক স্মারক (Financial Memorandum) অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টে নতুন চারজন বিচারপতির পদ সৃষ্টি এবং তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়ক কর্মী ও পরিকাঠামো গড়ে তুলতে বার্ষিক প্রায় ১০.৫৬ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ হবে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারপতির এই বর্ধিত সংখ্যা বাস্তবে কতটা দ্রুত রায়দানে সাহায্য করবে, তা নির্ভর করবে সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়াম কত দ্রুত নতুন নাম সুপারিশ করে এবং কেন্দ্র সেই অনুযায়ী নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তার ওপর। সোমবার লোকসভায় এই বিল পেশের সময় বিরোধী দলের পক্ষ থেকে নানা বিষয়ে প্রতিবাদ জানানো হলেও আইন প্রণয়নের এই প্রক্রিয়া সুচারুভাবেই এগিয়ে চলেছে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply