ভারতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ঘুষের পরিমাণের খতিয়ান প্রকাশ করল ব্রাইবস প্ল্যাটফর্ম

ভারতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ঘুষের পরিমাণের খতিয়ান প্রকাশ করল ব্রাইবস প্ল্যাটফর্ম

নয়াদিল্লি, ১৬ আগস্ট:

ভারতের বিভিন্ন স্তরের সরকারি দপ্তরগুলোতে নাগরিকদের দৈনন্দিন কাজ করানোর ক্ষেত্রে ঘুষ ও দুর্নীতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরে পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে ক্রাউডসোর্সড তথ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ব্রাইবস ডট এফওয়াইআই (https://bribes.fyi/) দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মানুষের জমা দেওয়া বাস্তব অভিজ্ঞতার রিপোর্টের ভিত্তিতে বিভিন্ন সরকারি বিভাগের গড় ঘুষের অঙ্ক এবং মোট রিপোর্টের সংখ্যা সম্পর্কিত এই খতিয়ান সামনে আনা হয়েছে। প্রকাশিত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও পরিবহন থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ, রাজস্ব ও আয়কর বিভাগের মতো কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরের বিভিন্ন সরকারি সংস্থায় ঘুষের পরিমাণে ব্যাপক ফারাক রয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অভিযোগ বা রিপোর্টের সংখ্যার নিরিখে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে রাজ্য সরকারের আওতাধীন পুলিশ প্রশাসন। পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিরুদ্ধে সর্বাধিক ২৮৩টি রিপোর্ট জমা পড়েছে, যেখানে গড়ে প্রতি ক্ষেত্রে ঘুষের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৬৮২ টাকা। এর ঠিক পরেই রয়েছে রাজ্য পরিবহন দপ্তর বা আরটিও, যার বিরুদ্ধে ৬৮টি অভিযোগ জমা হয়েছে এবং সেখানে কাজের জন্য দিতে হওয়া গড় ঘুষের অঙ্ক ২ হাজার ৪৪৫ টাকা। এ ছাড়া জমি সংক্রান্ত নথি ও রাজস্ব বিভাগে নাগরিকদের দিতে হওয়া ঘুষের বোঝা অত্যন্ত বেশি। রাজ্য সরকারের রেভিনিউ অ্যান্ড ল্যান্ড রেকর্ডস বিভাগের বিরুদ্ধে জমা পড়া ৫৭টি রিপোর্টে দেখা গেছে, এখানে গড়ে ১৮ হাজার ৭৮৮ টাকা পর্যন্ত ঘুষ লেনদেনের তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে।

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন দপ্তরগুলোর মধ্যেও ঘুষের লেনদেনের একাধিক তথ্য উঠে এসেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের পাসপোর্ট অফিসের ক্ষেত্রে ৩১টি রিপোর্ট নথিভুক্ত হয়েছে, যেখানে গড়ে ১ হাজার ৪২৪ টাকা ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে কেন্দ্রীয় স্তরের অর্থনৈতিক বিভাগগুলোতে এই অঙ্ক কয়েক গুণ বেশি। জিএসটি অফিসের ক্ষেত্রে ১৯টি রিপোর্টের ভিত্তিতে গড় ঘুষের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৫২৯ টাকা। আবার আয়কর বিভাগের ক্ষেত্রে ৬টি রিপোর্ট জমা পড়লেও সেখানে গড়ে ৩৫ হাজার ৯১৭ টাকা ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে, যা বিভাগীয় তালিকার গড় অঙ্কের দিক থেকে অন্যতম সর্বোচ্চ।

স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ও বিদ্যুৎ সরবরাহের মতো জরুরি নাগরিক পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রেও দুর্নীতির চিত্র সামনে এসেছে। স্থানীয় পৌর প্রশাসন বা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের ক্ষেত্রে ২৩টি অভিযোগ জমা পড়েছে, যেখানে নাগরিকদের গড়ে ২০ হাজার ৭৪১ টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদ বা ইলেকট্রিসিটি বোর্ডের বিরুদ্ধে ১৬টি রিপোর্ট জমা পড়েছে এবং সেখানে গড়ে ৩৩ হাজার ৩১৩ টাকা ঘুষের পরিমাণ রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া রাজ্য খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন বা ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে ২টি রিপোর্ট নথিভুক্ত হয়েছে, যেখানে গড় ঘুষের পরিমাণ ১ হাজার ৮৫০ টাকা।

আপনি নিজে এইখানে রিপোর্ট করতে পারবেন, আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল আপনি আপনার নিজের নাম লুকিয়ে রিপোর্ট করতে পারবেন । ইতিমধ্যে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম তিন তালিকায় আছে আমাদের মুখ্যমন্ত্রীর নিজের জেলা মেদিনীপুর তারপরে বাঁকুড়া তারপরে বর্ধমান।

সমস্ত তথ্য ব্রাইবস ডট এফওয়াইআই (https://bribes.fyi/) ওয়েবসাইট অনুযায়ী লেখা হয়েছে ।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply