নয়াদিল্লি, ২৯ জুলাই: দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, প্রয়াত ডঃ মনমোহন সিংকে বহুচর্চিত কয়লা ব্লক বণ্টন দুর্নীতি মামলা থেকে সম্পূর্ণ নিষ্কলঙ্ক ও নির্দোষ হিসেবে মুক্তি দিল ভারতের শীর্ষ আদালত। বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের একটি বিশেষ বেঞ্চ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বা সিবিআই-এর (CBI) পেশ করা ক্লোজার রিপোর্ট আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে ২০১৫ সালে হিন্দালকো (Hindalco) সংস্থাকে নিয়মবহির্ভূতভাবে কয়লা ব্লক বরাদ্দের যে অভিযোগ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে উঠেছিল, তার চূড়ান্ত আইনি অবসান ঘটল। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই হাই-প্রোফাইল রাজনৈতিক ও আইনি লড়াইয়ের আইনি ইতি টেনে আদালত জানিয়ে দিল, তৎকালীন সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো অপরাধমূলক মানসিকতা বা অনিয়ম ছিল না।
২০১৫ সালে স্ক্রিনিং কমিটির সুপারিশ এড়িয়ে আদিত্য বিড়লা গ্রুপের প্রধান সংস্থা হিন্দালকোকে কয়লা ব্লক বরাদ্দ করার অভিযোগে একটি সিবিআই বিশেষ আদালত তদন্তকারী সংস্থার জমা দেওয়া ক্লোজার রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করেছিল। এমনকি, তৎকালীন বিচারপতি ডঃ মনমোহন সিংকে আসামি হিসেবে হাজির হওয়ার জন্য সমনও জারি করেন। সিবিআই-এর মূল যুক্তি ছিল যে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো আর্থিক তছরুপ বা অনিয়মের তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। কিন্তু নিম্ন আদালত তদন্ত সংস্থার সেই দাবি খারিজ করে মামলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।
বুধবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ নিম্ন আদালতের সেই পূর্ববর্তী নির্দেশ এবং জারি করা সমন সম্পূর্ণভাবে বাতিল বা সেট-অ্যাসাইড (set aside) করে দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট পরিষ্কার ভাষায় জানিয়েছে, একটি বিশুদ্ধ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চালানোর মতো কোনো জোরালো বা প্রাসঙ্গিক কারণ ছিল না। তদন্তকারী সংস্থার কাছে মামলা বন্ধের পর্যাপ্ত যুক্তি থাকা সত্ত্বেও নিম্ন আদালত যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তা আইনি দিক থেকে সঠিক ছিল না।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে জীবনাবসান ঘটে দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ডঃ মনমোহন সিংয়ের। তাঁর প্রয়াণের প্রায় দেড় বছর পর সুপ্রিম কোর্ট এই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করল এবং গুণমানের ভিত্তিতে (on merits) পুরো প্রক্রিয়ার ইতি টানল। জীবদ্দশায় কয়লা কেলেঙ্কারির এই দাগ তাঁর কর্মজীবনের ওপর এক বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে ধরেছিল, যদিও তিনি সর্বদা নিজেকে নির্দোষ দাবি করে এসেছিলেন। আদালতের আজকের এই পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশ তাঁর সেই অবস্থানকেই পুনর্প্রতিষ্ঠিত করল।
আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, কয়লা দুর্নীতি কাণ্ড নিয়ে গত এক দশক ধরে যে রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপ তৈরি হয়েছিল, সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে তা পুরোপুরি ধুয়েমুছে গেল। সিবিআই দীর্ঘ তদন্তের পর যখন শেষ প্রতিবেদন জমা দিয়ে জানিয়েছিল যে কোনো প্রকার ব্যক্তিগত লাভ বা অপরাধের প্রমাণ মেলেনি, তখন সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত সেই সিবিআই রিপোর্টকেই আইনি সিলমোহর দিল। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী যে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছিলেন, শীর্ষ আদালতের আজকের পর্যবেক্ষণ তা নিশ্চিত করল।
বাংলাকাল-কে ফলো করুন।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

