মাইসুরু, ২৭ অগস্ট:
গো-হত্যা এবং বেআইনিভাবে গরু পাচারের প্রতিবাদে কর্ণাটকের মাইসুরুতে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করলেন হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের কর্মীরা। এই বিক্ষোভ চলাকালীন হিন্দুত্ববাদী নেতা পুনীত কেরেহাল্লি সহ বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটক করেছে পুলিশ। জেলাশাসকের কার্যালয়ের সামনে এই বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি মাইসুরু এবং সংলগ্ন এলাকায় বেআইনিভাবে গো-হত্যা ও গরু পাচারের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ তুলে পথে নামেন হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের কর্মীরা। তাঁদের মূল দাবি ছিল, রাজ্যে সম্পূর্ণভাবে গো-হত্যা নিষিদ্ধ করতে হবে এবং গরুর মাংস রফতানি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। এই দাবিতে জেলাশাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল বিক্ষোভকারীদের।
আন্দোলনকারীদের সমর্থনে এদিন বিক্ষোভে যোগ দেন হিন্দুত্ববাদী নেতা পুনীত কেরেহাল্লি। তাঁকে আন্দোলনস্থলে স্বাগত জানান অন্যান্য কর্মীরা। তবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ পুনীত কেরেহাল্লি সহ বেশ কয়েকজন কর্মীকে আটক করে।
পুলিশ জানিয়েছে, শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আটকের পর তাঁদের স্থানীয় থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনার পর মাইসুরু শহর জুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা জারি করা হয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও এলাকাগুলিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে নতুন করে কোনো অশান্তি সৃষ্টি না হয়।
পুনীত কেরেহাল্লি এর আগেও একাধিকবার গোরক্ষা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থেকে সংবাদ শিরোনামে এসেছেন। তবে এদিনের আটক প্রসঙ্গে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর তরফ থেকে পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, প্রশাসন যদি অবিলম্বে গো-হত্যা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নেয়, তবে আগামী দিনে তাঁরা আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
