তামিলনাড়ুর স্বার্থে আঘাত না লাগলে কেন্দ্র সরকারের প্রস্তাবিত লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাস বা ‘ডিলিমিটেশন বিল’ নিয়ে আলোচনায় বসতে রাজি DMK

তামিলনাড়ুর স্বার্থে আঘাত না লাগলে কেন্দ্র সরকারের প্রস্তাবিত লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাস বা ‘ডিলিমিটেশন বিল’ নিয়ে আলোচনায় বসতে রাজি DMK

নয়াদিল্লি, ১৮ জুলাই: লোকসভায় আসন সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচন থেকে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ আইন কার্যকর করার লক্ষ্যে মোদী সরকার সংসদে সংবিধান সংশোধনী বিল পাস করাতে মরিয়া। আর এই দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রের জন্য সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে ডিএমকে-র এই নমনীয় মনোভাব। এর আগে এপ্রিল মাসে বিরোধীদের তীব্র বিরোধিতায় এই বিলটি লোকসভায় মুখ থুবড়ে পড়েছিল। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ বলছে, বাদল অধিবেশনের মুখেই অবস্থান বদলাতে শুরু করেছে একাধিক বিরোধী দল।

একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিএমকে-র এক শীর্ষ নেতা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, সরকার যদি তামিলনাড়ুসহ দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির রাজনৈতিক অধিকার ও প্রতিনিধিত্ব অক্ষুণ্ণ রাখার আইনি গ্যারান্টি দিতে পারে, তবে তারা আলোচনায় অংশ নিতে প্রস্তুত। ডিএমকে-র তরফে জানানো হয়েছে, “কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রতিটি রাজ্যের জন্য নির্দিষ্ট আসনের অংশ পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে, যাতে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির কোনো ক্ষতি না হয়। যদি বৈষম্য না করার কোনো পাকাপোক্ত লিখিত প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়, তবে আমরা আমাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে পারি।”

বিগত অধিবেশনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মৌখিকভাবে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, আসন পুনর্বিন্যাসের পর প্রতিটি রাজ্যের আসন সংখ্যা সমানভাবে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হবে। এবার সরকার সেই মৌখিক আশ্বাসকে লিখিত আকারে বিলের খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারে বলে জানা গেছে।

ডিএমকে-র এই আকস্মিক নীতিগত পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে তামিলনাড়ুর অভ্যন্তরীণ রাজনীতির ভোলবদল। সম্প্রতি তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের পর ডিএমকে-র দীর্ঘদিনের সহযোগী দল কংগ্রেস তাদের হাত ছেড়ে অভিনেতা বিজয়ের নেতৃত্বাধীন দল ‘টিভিকে’ (TVK)-র শিবিরে যোগ দিয়েছে এবং সেখানে সরকার গঠনে অংশ নিয়েছে।

কংগ্রেসের এই আচরণকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন ডিএমকে নেতারা। তাদের দাবি, ডিএমকে-র সমর্থনে পাঁচটি আসন জেতার পর কংগ্রেস যেভাবে জোট ভেঙেছে, তারপর তাদের আর কোনো নৈতিক অধিকার নেই ডিএমকে-কে উপদেশ দেওয়ার। ফলে জাতীয় স্তরে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) ব্লকের সিদ্ধান্ত মেনে চলার কোনো বাধ্যবাধকতা এখন আর ডিএমকে-র নেই। সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে এবং রাজ্যের ভালো-মন্দ বিচার করেই এবার সিদ্ধান্ত নেবে চেন্নাই।

ডিএমকে-র পাশাপাশি শরদ পওয়ারের নেতৃত্বাধীন এনসিপি (এসপি)-র পক্ষ থেকেও ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হয়েছে। দলটির কার্যকরী সভানেত্রী সুপ্রিয়া সুলে সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সমস্ত রাজ্যে যদি সমানুপাতিক হারে ৫০ শতাংশ আসন বৃদ্ধি করা হয়, তবে এই বিলের বিরোধিতা করার তেমন কোনো কারণ থাকবে না।

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের ধাক্কা এবং শিবসেনা (ইউবিটি) ও এনসিপি-র ভাঙনের পর সংসদে এমনিতেই বিরোধী শিবিরের শক্তি কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ডিএমকে এবং শরদ পওয়ারের দলের সুর নরম হওয়ায় সংসদের আসন্ন বাদল অধিবেশনে বহু প্রতীক্ষিত ডিলিমিটেশন বিল পাসের পথ অনেকটাই সুগম হতে চলেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তবে শেষ পর্যন্ত তামিলনাড়ুর স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে কেন্দ্র কী রফাসূত্র বের করে, এখন সেটাই দেখার।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন।

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply