ইলেকশন কমিশনের ‘ইরোনেট’ সফটওয়্যারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাম বাদ দেওয়ার আবেদন! কাঠগড়ায় উত্তরপ্রদেশের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া

ইলেকশন কমিশনের ‘ইরোনেট’ সফটওয়্যারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাম বাদ দেওয়ার আবেদন! কাঠগড়ায় উত্তরপ্রদেশের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া

নয়াদিল্লি, ৯ অক্টোবর: উত্তরপ্রদেশে ভোটার তালিকার ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের কেন্দ্রীয় সফটওয়্যার ‘ইরোনেট’ (ERONET)-এর ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য সামনে এল। অনুসন্ধানী সাংবাদিক সংগঠন ‘দ্য রিপোর্টার্স কালেক্টিভ’-এর এক অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, কোনো কারণ উল্লেখ ছাড়াই নির্বাচন কমিশনের সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৮৫,৮৫৪টি ভোটার নাম বাতিলের আবেদনপত্র (ফর্ম ৭) তৈরি করেছে। ‘রেজিস্ট্রেশন অব ইলেক্টর্স রুলস, ১৯৬০’ অনুযায়ী ভোটার তালিকায় কারও নাম বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কারণ দর্শানো বাধ্যতামূলক হলেও, এই নিয়ম সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন সাংবাদিক নীতিন শেঠি।

উত্তরপ্রদেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা প্রায় ৪.৩ লক্ষ ‘ফর্ম ৭’ আবেদনের ডেটা বিশ্লেষণ করে এই মারাত্মক অসঙ্গতি প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। তথ্যানুসন্ধানে দেখা গেছে, ইলেক্টরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO) এবং সহকারী ইলেক্টরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের (AERO) মাধ্যমে জমা পড়া মোট ৮৭,১২৭টি নাম বাতিলের আবেদনের মধ্যে ৯৮.৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই নাম কাটার কোনো কারণ লেখা ছিল না। এর মধ্যে ২০ শতাংশেরও বেশি আবেদন নির্দিষ্ট সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর দায়ের করা হয়েছিল।

তদন্তকারী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক আধিকারিকরা স্বীকার করেছেন যে, এসআইআর শুনানির পর সফটওয়্যার নিজে থেকেই আধিকারিকদের ডিজিটাল স্বাক্ষর যুক্ত করে এই ফর্মগুলি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের জন্য পাঠিয়ে দেয়। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী বুথ লেভেল অফিসারদের নাম কাটার নির্দিষ্ট কারণ যাচাই করে স্বাক্ষর করার কথা থাকলেও, পুরো প্রক্রিয়াটি স্বয়ংক্রিয় অ্যালগরিদমের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও তুলে ধরা হয়েছে যে, বিশেষ কিছু বিধানসভা কেন্দ্রকে অস্বাভাবিকভাবে নিশানা করা হয়েছে এবং নির্দিষ্ট সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও ১.১ লক্ষেরও বেশি নাম বাতিলের আবেদন অনুমোদিত হয়েছে। প্রসঙ্গত, এই বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উত্তরপ্রদেশের ভোটার তালিকা ১৫.৪৪ কোটি থেকে কমিয়ে ১৩.৪ কোটিতে নামিয়ে আনা হয়। প্রায় ২ কোটি ভোটারের নাম বাদ পড়ার নেপথ্যে এমন গুরুতর নিয়মভঙ্গ ও অস্বচ্ছতার অভিযোগ জাতীয় স্তরে কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply