পাটনা ও নয়াদিল্লি, ৯ অক্টোবর:
রাজধানীতে প্রবেশ ঠেকাতে এবার কি নজিরবিহীন কৌশল নিল ভারতীয় রেল? রাজপথের তীব্র যানজটের আশঙ্কার কারণ দেখিয়ে বিহার ও পূর্ব ভারত থেকে দিল্লিগামী একাধিক দূরপাল্লার সুপারফাস্ট ও মেল/এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে পূর্ব মধ্য রেলের দানাপুর ডিভিশন। আগামী ১০ অক্টোবর শনিবার সকাল ৪টে থেকে দুপুর ২টোর মধ্যে নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছনোর কথা ছিল এমন বহু ট্রেনকে যাত্রা শুরুর প্রান্ত থেকেই বাতিল করা হয়েছে। তবে সড়কপথের যানজট দেখিয়ে এভাবে ট্রেন পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়ার প্রশাসনিক যুক্তি ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র ব্যঙ্গ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিরোধী শিবির এবং রাজনৈতিক মহলের স্পষ্ট দাবি, ১০ অক্টোবর মধ্য দিল্লিতে বিরোধী দলগুলির ডাকা মেগা প্রতিবাদ ও জনবিক্ষোভ কর্মসূচি বানচাল করতেই এই অদ্ভুত পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন।
দানাপুর ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজারের (DRM Danapur) এক্স হ্যান্ডল থেকে প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৯ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ১০ অক্টোবর সকালে নয়াদিল্লি স্টেশনে পৌঁছনোর কথা ছিল এমন চারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে। বাতিল করা ট্রেনগুলির তালিকায় রয়েছে:
- ২০৮০১ মগধ এক্সপ্রেস
- ১২৩০৯ তেজস রাজধানী এক্সপ্রেস (রাজেন্দ্রনগর টার্মিনাল – নয়াদিল্লি)
- ১২৩৯৩ সম্পূর্ণ ক্রান্তি এক্সপ্রেস
- ২২৩৬১ অমৃত ভারত এক্সপ্রেস (রাজেন্দ্রনগর টার্মিনাল – নয়াদিল্লি)
রেল প্রশাসনের তরফে দাবি করা হয়েছে, আগামী ১০ অক্টোবর ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন রেলস্টেশন চত্বর এবং সংলগ্ন সড়কপথে ভয়াবহ যানজটের পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। স্টেশনমুখী রাস্তাগুলিতে যান চলাচল প্রায় স্তব্ধ হয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। সেই অচলাবস্থায় রেলযাত্রীরা যাতে দিল্লির রাস্তায় চরম হয়রানি ও ভোগান্তির মুখে না পড়েন, সেই সতর্কতা থেকেই আগাম ট্রেন বাতিলের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রেল কর্তৃপক্ষ ‘সড়ক যানজট’-এর কথা বললেও আসল কারণ যে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক, তা ওয়াকিবহাল মহলের কাছে গোপন নেই। গোয়েন্দা রিপোর্ট ও ট্রাফিক নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী ১০ অক্টোবর রাজধানী দিল্লির কেন্দ্রস্থলে এক বিশাল বিরোধী জনসমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে। দেশজুড়ে বিভিন্ন বিরোধী দল, ছাত্র-যুব সংগঠন এবং আন্দোলনকারীরা দিল্লির বুকে এককাট্টা হয়ে প্রতিবাদ জানানোর ডাক দিয়েছেন।
নিরাপত্তা সংস্থাগুলির আশঙ্কা, ট্রেনযোগে বিহার, উত্তরপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে হাজার হাজার আন্দোলনকারী রাজধানীতে এসে এই বিক্ষোভে শামিল হতে পারেন। ফলে আন্দোলনকারীদের দিল্লি প্রবেশে কার্যত রাশ টানতেই সকাল ৪টে থেকে দুপুর ২টোর মধ্যবর্তী সময়ে দিল্লি ও নিজামুদ্দিন স্টেশনে ঢোকার সমস্ত ট্রেনের চাকা থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই পূর্ব রেলের তরফে হাওড়া ও শিয়ালদহ থেকে নয়াদিল্লিগামী রাজধানী এক্সপ্রেসও বাতিল করার নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
রেলের এই নির্দেশ সামনে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে চরম ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সাধারণ যাত্রী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। “রাস্তায় গাড়ির জ্যামের কারণে রেললাইন দিয়ে চলা ট্রেন বাতিল”—রেলওয়ের ইতিহাসে এমন কারণ কার্যত অবিশ্বাস্য ও নজিরবিহীন বলে কটাক্ষ করছেন যাত্রীরা।
অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, যানজট নিয়ন্ত্রণে রাখার দায়িত্ব যখন দিল্লি পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগের, তখন রেলের ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা কোন যুক্তিতে পড়ে? সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই ব্যঙ্গ করে লিখছেন, বিক্ষোভকারীদের পদযাত্রার ভয়ে ট্রেন বন্ধ করে দেওয়া আসলে প্রশাসনের অসহায়তা ও ভয়কেই প্রকাশ্যে এনে দিচ্ছে। এদিকে শেষ মুহূর্তে জরুরি কাজের এই সমস্ত ট্রেনের টিকিট বাতিল হওয়ায় কয়েক হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

