বিশেষ সংবাদদাতা, দেরাদুন: ভারতের পাহাড়ি রাজ্য উত্তরাখণ্ডে নতুন করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের বাড়ি বা দোকান ঘর ভাড়া না দেওয়ার জন্য স্থানীয় হিন্দুদের প্রতি প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি দিয়ে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন হিন্দুত্ববাদী নেতা ভৈরব সিং চৌহান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘মুসলিম মিরর’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর এই উসকানিমূলক মন্তব্য ও প্রকাশ্য হুমকির জেরে রাজ্যের সংখ্যালঘু সমাজ চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তার সংকটে ভুগছে।
সম্প্রতি উত্তরাখণ্ডের একটি এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখার সময় ভৈরব সিং চৌহান উগ্র মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, পাহাড়ি অঞ্চলে মুসলিমদের সংখ্যা বৃদ্ধি স্থানীয় সনাতন সংস্কৃতির জন্য হুমকি। বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “কোনো হিন্দু যদি তাঁর বাড়ি, জমি বা দোকান কোনো মুসলিমকে ভাড়া দেন, তবে সমাজ তাঁকে বয়কট করবে। অবিলম্বে মুসলিম ভাড়াটিয়াদের বাড়ি থেকে বের করে দিতে হবে।”
শুধু মুখের কথায় সীমাবদ্ধ না থেকে তিনি এবং তাঁর অনুগামীরা স্থানীয় বাড়িওয়ালা ও ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি, যারা মুসলিমদের ঘর ভাড়া দিয়েছেন, তাঁদের চিহ্নিত করে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে হেনস্তা করার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।
ভৈরব সিং চৌহানের এই প্রকাশ্য উসকানিমূলক বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। মানবাধিকার কর্মী এবং সচেতন নাগরিক সমাজ এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে একে ভারতীয় সংবিধানের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী বলে আখ্যা দিয়েছেন। ভারতের সংবিধান অনুযায়ী দেশের যেকোনো নাগরিক দেশের যেকোনো প্রান্তে বসবাস বা ব্যবসা করার অধিকার রাখেন। সেখানে নির্দিষ্ট একটি ধর্মের মানুষকে নিশানা করে এই ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ সমাজে বিভাজন তৈরি করছে বলে বিশেষজ্ঞদের মত।
উত্তরাখণ্ডের বিভিন্ন মুসলিম ও ধর্মনিরপেক্ষ সংগঠন এই নেতার বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক উসকানি ও বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে অবিলম্বে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
এই স্পর্শকাতর ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির অভিযোগ, পাহাড়ি রাজ্যে এই ধরনের চরমপন্থী নেতাদের প্রকাশ্য বিদ্বেষমূলক প্রচারের বিরুদ্ধে পুলিশ উপযুক্ত পদক্ষেপ না নেওয়ায় অপরাধীদের সাহস আরও বেড়ে যাচ্ছে।
আপাতত এই ঘটনার পর উত্তরাখণ্ডের ওই নির্দিষ্ট এলাকাটিতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সংখ্যালঘু পরিবারের মানুষেরা জীবিকা ও মাথা গোঁজার ঠাঁই হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। প্রশাসন যদি দ্রুত এই চরমপন্থী প্রচার রুখতে কড়া পদক্ষেপ না নেয়, তবে রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
