জৈশ মডিউলে ফের বড় ধাক্কা: গুজরাতে বিস্ফোরক পরীক্ষার অভিযোগে ধৃত আরও ৫ জেনুইন জেএম জঙ্গি

জৈশ মডিউলে ফের বড় ধাক্কা: গুজরাতে বিস্ফোরক পরীক্ষার অভিযোগে ধৃত আরও ৫ জেনুইন জেএম জঙ্গি

কলকাতা, ১৭ জুলাই: দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসদমন অভিযানে ফের বড়সড় সাফল্য পেল গুজরাতের সন্ত্রাসবিরোধী শাখা (এটিএস)। পাকিস্তান-ভিত্তিক নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন ‘জৈশ-এ-মহম্মদ’ (জেএম)-এর স্থানীয় মডিউল ধ্বংস করার প্রক্রিয়াকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে শুক্রবার রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় চিরুনি তল্লাশি চালিয়ে আরও পাঁচজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এটিএস সূত্রে জানা গেছে, এই অভিযুক্তরা এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া জঙ্গিদের সহযোগিতায় স্থানীয় স্তরে শক্তিশালী বিস্ফোরক বা আইইডি (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) পরীক্ষার কাজ চালাচ্ছিল। এই ধড়পাকড়ের ফলে গুজরাত তথা দেশের পশ্চিমাঞ্চলে জৈশের নাশকতামূলক জাল বিস্তারের এক ভয়াবহ ছক বানচাল হয়ে গেল বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষাবিশেষজ্ঞরা।

এটিএসের বিশেষ তদন্তকারী দল জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই শুক্রবার ভোররাত থেকে গুজরাতের একাধিক জেলায় অভিযান চালানো হয়। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তারা হলেন— বিলাল আবিদ শেরা, মহম্মদ আইয়ুব কাডিওয়াল (ওরফে মহম্মদ খাড়িয়াসন), মহম্মদ শফি মুখী (ওরফে শফি চপি), মহম্মদ হাসান কারাদিয়া (ওরফে হাসান হায়দারপুরী) এবং মহম্মদ আইয়ুব সুনাচরা (ওরফে মহম্মদ খালি)। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃত পাঁচজনই পাকিস্তানের জেএম হ্যান্ডলার বা নিয়ন্ত্রকদের নির্দেশে ভারতে নাশকতার ভিত্তিভূমি তৈরি করতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিল।

ধৃতদের জেরা করে এটিএসের হাতে এসেছে অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গেছে, গুজরাতে বড় ধরনের কোনো হামলা চালানোর উদ্দেশ্যেই এই চক্রটি কাজ করছিল। চলতি জুলাই মাসের শুরুতেই যে আটজন জৈশ জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল এই পাঁচজনের। ধৃতরা গোপনে ফাঁকা জায়গায় নিয়ে গিয়ে টাইম বম্ব বা বিশেষ অপরিশোধিত বিস্ফোরক পরীক্ষা (টেস্টিং) করার কাজ চালিয়েছিল। যদিও এটিএস জানিয়েছে, তাদের সেই পরীক্ষা পুরোপুরি সফল হতে পারেনি। ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে এখন জানার চেষ্টা চলছে যে, এই বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম তারা কোথা থেকে সংগ্রহ করেছিল এবং আরও কোনো সক্রিয় স্লিপার সেল এই রাজ্যের মাটিতে গোপনে অবস্থান করছে কি না।

উল্লেখ্য, চলতি জুলাই মাসের প্রথম দিকেও গুজরাত এটিএস এক ঐতিহাসিক অভিযানে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা এবং পার্শ্ববর্তী মধ্যপ্রদেশ থেকে জৈশ-এ-মহম্মদের আটজন কট্টর সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছিল। সেই অভিযানেই প্রথম জানা যায় যে, সীমান্তপারের পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের নির্দেশে গুজরাতে সম্পূর্ণ একটি লোকাল মডিউল বা স্থানীয় নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কাজ চলছিল। ওই মডিউলটির মূল কাজ ছিল যুবকদের মগজধোলাই বা রিক্রুটমেন্ট করা এবং স্থানীয় স্তরে লজিস্টিক সহায়তা প্রস্তুত রাখা। পূর্ববর্তী সেই আটজনকে জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরেই এই নতুন পাঁচজনের নাম ও গতিবিধির হদিস মেলে, যার ফলশ্রুতিতে আজকের এই সফল দ্বিতীয় দফার গ্রেপ্তার।

সব মিলিয়ে চলতি মাসে গুজরাতে জৈশ নেটওয়ার্কের মোট ১৩ জন সক্রিয় সদস্যকে খাঁচাবন্দি করতে সমর্থ হলেন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য গোয়েন্দারা। ধৃতদের বিশেষ আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাচ্ছে এটিএস, যাতে এই আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী চক্রের সম্পূর্ণ শিকড় উপড়ে ফেলা সম্ভব হয়।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

,

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply