শিরোনাম: ‘সীতার পতির নাম নিয়ে নীতার পতির কাজ!’ কুণাল কামরাকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীর লিগ্যাল নোটিশ

শিরোনাম: ‘সীতার পতির নাম নিয়ে নীতার পতির কাজ!’ কুণাল কামরাকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীর লিগ্যাল নোটিশ

নয়াদিল্লি, ১৭ জুলাই: মোদী সরকার ও শিল্পপতি মুকেশ আম্বানিকে কটাক্ষ করতে গিয়ে হিন্দু দেব-দেবীর নাম জুড়ে রাজনৈতিক রসিকতা করার অভিযোগে তীব্র বিতর্কে জড়ালেন কৌতুকশিল্পী (কমেডিয়ান) কুণাল কামরা। নিট (NEET) পরীক্ষার অনিয়ম নিয়ে চলমান ছাত্র আন্দোলনের আবহে গত ১৫ জুলাই দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র এক প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখছিলেন তিনি। সেখানে তাঁর করা একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এবার আইনি জটিলতায় পড়েছেন এই কমেডিয়ান। ভগবান রাম এবং সীতাকে নিয়ে আপত্তিকর উপহাস করার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অমিতা সচদেভা কুণাল কামরাকে একটি আনুষ্ঠানিক আইনি নোটিশ (লিগ্যাল নোটিশ) পাঠিয়েছেন।

দিল্লির প্রতিবাদী মঞ্চ থেকে কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করে কুণাল কামরা মন্তব্য করেছিলেন, “সীতার পতির নাম লে লেকর নীতার পতির কাম কর রহে হ্যায়” (অর্থাৎ, সীতার স্বামী বা ভগবান রামের নাম জপ করে এরা নীতার স্বামী বা মুকেশ আম্বানির কাজ গুছিয়ে দিচ্ছে)। নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ফলাফল নিয়ে দেশজুড়ে চলা ছাত্র বিক্ষোভের মধ্যে সরকারের ভূমিকাকে আক্রমণ করতেই কামরা এই ব্যাঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করতে গিয়ে হিন্দু ধর্মের পবিত্র অবতারদের নাম টানায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন আইনজীবী অমিতা সচদেভা।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অমিতা সচদেভা তাঁর আইনি নোটিশে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। কামরাকে অবিলম্বে ওই প্রতিবাদ সভার বিতর্কিত বক্তব্যের ভিডিওটি সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে মুছে ফেলার (ডিলিট) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, এই ধরণের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারী মন্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। নোটিশে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ধারাবিবরণী বা ব্যঙ্গাত্মক রসিকতার ক্ষেত্রে ভগবান রাম ও সীতার নাম কোনোভাবেই ব্যবহার বা উপহাস করা চলবে না।

আইনজীবী সচদেভা তাঁর নোটিশে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র একাধিক ধারা উল্লেখ করেছেন, যা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা এবং ধর্মীয় অবমাননার সঙ্গে সম্পর্কিত। এ ছাড়াও, ২০২৩ সালে সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া একটি ঐতিহাসিক রায়ের কথাও এই নোটিশে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালের ওই আদেশে দেশের সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, কোনো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত বা উস্কানিমূলক বক্তব্য (হেট স্পিচ)-এর ক্ষেত্রে পুলিশকে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগের অপেক্ষা না করে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে (Suo Moto) এফআইআর (FIR) দায়ের করতে হবে। কুণাল কামরার বক্তব্য সেই আদেশের পরিপন্থী বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে।

এই ঘটনাটি ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে বাকস্বাধীনতা ও ব্যঙ্গাত্মক রসিকতার (পলিটিক্যাল স্যাটায়ার) সীমানা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে প্রগতিশীলদের একাংশের দাবি, রাজনৈতিক সমালোচনা বা ব্যঙ্গ করার অধিকার প্রত্যেকের রয়েছে। অন্যদিকে, হিন্দু ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার এই প্রবণতাকে একেবারেই ভালো চোখে দেখছেন না সাধারণ নাগরিক ও আইনজ্ঞদের একটি বড় অংশ। রাজনৈতিক স্বার্থে সনাতন ধর্মের আরাধ্য দেব-দেবীদের যত্রতত্র ব্যবহার বন্ধ হওয়া উচিত বলে দাবি উঠছে। এখন দেখার, সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবীর লিগ্যাল নোটিশের জবাবে কমেডিয়ান কুণাল কামরা কী পদক্ষেপ নেন।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন।

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply