শ্রীনগর, ১৯ জুলাই: শনিবার রাতভর প্রবল বর্ষণের জেরে ভয়াবহ হড়পা বান এবং ধসের কবলে পড়েছে জম্মু ও কাশ্মীরের পুঞ্চ এবং রাজৌরি জেলা। প্রকৃতির এই ভয়াবহ রুদ্ররূপে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং এক শিশু-সহ অন্তত ৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। জলের প্রবল তোড়ে বহু ঘরবাড়ি মাটির নিচে চাপা পড়েছে এবং রাস্তাঘাটে দাঁড়িয়ে থাকা অসংখ্য যানবাহন খড়কুটোর মতো ভেসে গিয়েছে। দুর্যোগের জেরে সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে ঐতিহ্যবাহী অমরনাথ যাত্রা ও বৈষ্ণোদেবী যাত্রা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দিল্লি সফর কাটছাঁট করে জম্মুতে ফিরে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ।
সরকারি আধিকারিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুঞ্চ জেলার সুরানকোট তহশিল এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শনিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া মুষলধারে বৃষ্টির জেরে পাহাড়ি নদীগুলি ফুঁসে ওঠে। ভোরের দিকে সুরানকোটের লোয়ার মুররা গ্রামে একটি বিশাল ধস আছড়ে পড়ে একটি বসতবাড়ির ওপর। মুহূর্তের মধ্যে বাড়িটি মাটির নিচে চাপা পড়ে যায় এবং পরিবারের সদস্যরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েন। উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেখান থেকে বেশ কয়েকটি মৃতদেহ উদ্ধার করেছে, যার মধ্যে দুই বছরের এক শিশুও রয়েছে। এছাড়া সাংলা গ্রামে হড়পা বানের তোড়ে একই পরিবারের চার সদস্য ভেসে গিয়েছেন এবং তাঁদের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, রাজৌরি জেলাতেও বৃষ্টি ও বন্যার তাণ্ডব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। গভীর রাতে দারহালি নদীর জলস্তর বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইতে শুরু করায় রাজৌরি শহরের বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়। শহরের নতুন বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন বেলা কলোনিতে হড়পা বানের জল ঢুকে পড়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যার তোড়ে ভেসে গিয়েছে কয়েক ডজন ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক গাড়ি। প্রশাসনের তরফ থেকে নিচু এলাকার কয়েকশো বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দারহালি নদী থেকে এক অজ্ঞাতপরিচয় মহিলার মৃতদেহ উদ্ধার করেছে উদ্ধারকারী দল।
জম্মু ও কাশ্মীরের উপ-রাজ্যপাল মনোজ সিনহা পুঞ্চ এবং রাজৌরি জেলার এই বন্যা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন। তিনি উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে দ্রুত ত্রাণ ও উদ্ধারকার্য চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আক্রান্ত এলাকাগুলিতে পুলিশ, ভারতীয় সেনা, এসডিআরএফ (SDRF) এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা যৌথভাবে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। তবে লাগাতার বৃষ্টি এবং ধসের কারণে বিভিন্ন রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকাজে গতি আনতে বেগ পেতে হচ্ছে উদ্ধারকারীদের।
দিল্লিতে জম্মু-কাশ্মীরের পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদার দাবিতে আয়োজিত একটি কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ। কিন্তু রাজ্যের এই সংকটজনক পরিস্থিতির খবর পেয়েই তিনি দিল্লি সফর সংক্ষিপ্ত করে সরাসরি জম্মুতে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, পরিস্থিতির ওপর তিনি প্রতিনিয়ত নজর রাখছেন এবং প্রশাসনের মূল অগ্রাধিকার হল সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষা করা। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সব ধরনের সরকারি সাহায্য দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
মৌসম ভবন (IMD) থেকে জানানো হয়েছে, জম্মু, কাঠুয়া, সাম্বা, রাজৌরি ও ডোডা-সহ একাধিক জেলায় আগামী ২৩ জুলাই পর্যন্ত মাঝারি থেকে অত্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত জারি থাকতে পারে। পাহাড়ি এলাকায় নতুন করে ধস এবং নদীগুলির জলস্তর আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষকে নদী ও পাহাড়ি খাদের কাছাকাছি যেতে নিষেধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তার স্বার্থে পাহালগাম ও বালতাল উভয় রুট থেকেই অমরনাথ যাত্রা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাকাল-কে ফলো করুন।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

