নয়াদিল্লি, ১৯ জুলাই:পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার ও নিট (NEET) কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে যন্তর মন্তরে গত ২০ দিন ধরে অনশনে বসার পর প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও পরিবেশ আন্দোলনকর্মী সোনাম ওয়াংচুককে জোরপূর্বক হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেছে দিল্লি পুলিশ। সরকারের এই পদক্ষেপকে সম্পূর্ণ অনাবশ্যক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তাঁর স্ত্রী তথা সমাজকর্মী ড. গীতাঞ্জলি জে. ওয়াংচুক (অ্যাংমো)। ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা ভালো থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র আন্দোলনকে দমন করতেই এমন ‘উদ্বেগজনক পরিস্থিতির’ বিভ্রান্তিকর ন্যারেটিভ বা নাটক তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এই বিষয়ে তিনি দিল্লি হাইকোর্টেরও দ্বারস্থ হয়েছেন।
দিল্লি পুলিশের তরফ থেকে ওয়াংচুককে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করার পরপরই বিচারপতি মিনি পুষ্করণার এজলাসে একটি জরুরি আর্জি দাখিল করেন গীতাঞ্জলি অ্যাংমো। ওই পিটিশনে তিনি আবেদন জানান, সফদরজং হাসপাতালের ওপর তাঁদের কোনো আস্থা নেই, তাই ওয়াংচুককে তাঁর পছন্দমতো অন্য কোনো বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার অনুমতি দেওয়া হোক। তবে হাইকোর্ট এই মামলায় কোনো অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দিতে অস্বীকার করেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, কোনো রোগীকে কোন হাসপাতালে রাখা হবে, সেটি সম্পূর্ণ চিকিৎসকদের দল এবং মেডিকেল প্রোটোকলের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। একে স্বৈরাচারী পদক্ষেপ বলা চলে না।
হাসপাতাল চত্বর থেকে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গীতাঞ্জলি অ্যাংমো ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “সরকার দাবি করছে যে ওঁর স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছিল বলেই গভীর উদ্বেগ থেকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। কিন্তু এই দাবি পুরোপুরি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আগের দিন সন্ধ্যার মেডিকেল রিপোর্ট দেখলেই বোঝা যাবে, ওঁর সমস্ত প্যারামিটার সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল। যদি সত্যিই সরকারের ওঁর স্বাস্থ্য নিয়ে এত মাথাব্যথা থাকত, তবে সাধারণ পোশাকে পুলিশ পাঠিয়ে কেন এত নির্মমভাবে ওঁকে স্ট্রেচারে তুলে নিয়ে আসা হলো?” গণতান্ত্রিক উপায়ে পরিবারকে আগাম কোনো নোটিশ বা চিকিৎসকদের পরামর্শ না জানিয়ে মাঝরাতে করা এই বলপ্রয়োগকে তিনি ‘উদ্বেগের আড়ালে রাজনৈতিক চাল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
দীর্ঘ ২০ দিনের অনশনের কারণে সফদরজং হাসপাতালের চিকিৎসকরা ওয়াংচুককে আইভি ফ্লুইড (স্যালাইন) এবং ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন (ওআরএস) দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে ওয়াংচুক কোনো ধরনের ওষুধ বা কৃত্রিম তরল গ্রহণ করতে স্পষ্ট অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এই বিষয়ে গীতাঞ্জলি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, তাঁর কিংবা ওঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের সম্মতি ছাড়া ওয়াংচুকের শরীরে জোর করে কোনো ওষুধ বা তরল প্রয়োগ করা যাবে না, কারণ এটি ওঁর শারীরিক স্বাধীনতার লঙ্ঘন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ওয়াংচুকের রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা সামান্য কমেছে এবং ইউরিনে কিটোন বডির উপস্থিতি মিলেছে, তবে তিনি সম্পূর্ণ সজ্ঞানে ও মানসিকভাবে চনমনে রয়েছেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ জুন থেকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র ব্যানারে চলা ছাত্র আন্দোলনে শামিল হন ওয়াংচুক। আগামী ২০ জুলাই সোমবার থেকে সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হতে চলেছে। ওই দিনই দেশজুড়ে পড়ুয়া ও কৃষকদের নিয়ে একটি বিশাল সংসদ অভিযানের (Parliament March) ডাক দেওয়া হয়েছিল। বিরোধীদের দাবি, এই আন্দোলনকে বানচাল করতেই ঠিক তার আগের দিন ওয়াংচুককে আন্দোলনস্থল থেকে সরিয়ে হাসপাতালে বন্দি করা হলো। গীতাঞ্জলি জানিয়েছেন, সোনাম ওয়াংচুককে আটকে রাখলেও আন্দোলন থামবে না, হাজার হাজার পড়ুয়া কাল সংসদে শান্তিপূর্ণভাবে পদযাত্রা করবেন।
বাংলাকাল-কে ফলো করুন
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

