নয়াদিল্লি, ২৬ জুলাই: বিতর্কিত নিট (NEET-UG) প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি এবং টানা ছাত্র আন্দোলনের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পরপরই দপ্তরে নতুন কাণ্ডারী বসাল নরেন্দ্র মোদী সরকার। প্রবীণ বিজেপি নেতা তথা অভিজ্ঞ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রলহাদ জোশীকে ভারতের নতুন কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের দায়িত্ব সঁপে দেওয়া হলো। ২৫ জুলাই তাঁকে এই অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করা হয়। শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি দেশের কোটি কোটি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং কাঠামোগত আমূল সংস্কারসাধন করাই এখন তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
এক্স (সাবেক টুইটার)-এ রাজনৈতিক বিশ্লেষক আশিক ইকবাল (@ashick_ikbal)-এর সামাজিক মাধ্যম পোস্ট সূত্রে এই বড় খবরটি সামনে এসেছে। কর্ণাটকের ধরওয়াড় লোকসভা কেন্দ্র থেকে টানা পাঁচবারের জয়ী সাংসদ প্রলহাদ জোশী ভারতীয় জনতা পার্টির অন্দরে ও কেন্দ্রীয় সরকারে অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং দক্ষ সংগঠক হিসেবে পরিচিত। শিক্ষা মন্ত্রকের দায়িত্ব পাওয়ার পর এখন দেশের ভঙ্গুর পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করা তাঁর প্রাথমিক অগ্রাধিকার হতে চলেছে।
কর্ণাটকের ধরওয়াড় জেলার বিজেপি সভাপতি হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করা প্রলহাদ জোশী ধাপে ধাপে রাজ্য বিজেপির শীর্ষ পদে পৌঁছান। ব্যবসায়ী থেকে রাজনীতিতে আসা জোশীর পেছনে রয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর শক্ত আদর্শিক পটভূমি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি যেমন সংগঠনের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করেছেন, তেমনই সংসদীয় রাজনীতিতেও সমান দক্ষতায় নিজেকে প্রমাণ করেছেন।
মোদী সরকারের বিগত মেয়াদগুলোতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্যাবিনেট দপ্তরের সফল দায়িত্ব সামলেছেন প্রলহাদ জোশী। বিশেষ করে সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রক, কয়লা ও খনি মন্ত্রকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর পরিচালনার দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা তাঁর ঝুলিতে রয়েছে। সংসদের জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামলানো থেকে শুরু করে প্রশাসনিক নীতি নির্ধারণ— উভয় ক্ষেত্রেই তাঁর দক্ষতা সর্বজনবিদিত। ফলে শিক্ষা মন্ত্রকের মতো স্পর্শকাতর দপ্তরের চরম সংকটের মুখে তাঁকেই ভরসাযোগ্য মুখ হিসেবে বেছে নিল দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব।
জাতীয় স্তরের মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট-ইউজি ২০২৬’-এর প্রশ্নপত্র লিক এবং মারাত্মক কারচুপির অভিযোগে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তোলপাড় হচ্ছিল সমগ্র দেশ। দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত পরীক্ষার্থী, ককোরোচ জনতা পার্টি (CJP) সহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের লাগাতার প্রতিবাদ ও দেশজোড়া ক্ষোভের মুখে ২৫ জুলাই ইস্তফা দিতে বাধ্য হন বিদায়ী শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। পরীক্ষা ব্যবস্থার চরম গাফিলতি এবং শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঘটনার পর কেন্দ্র সরকারের ওপর মারাত্মক রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছিল।
এই কঠিন ও উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়েই জোশীকে মুখোমুখি হতে হচ্ছে একঝাঁক কঠিন চ্যালেঞ্জের। প্রথমত, নিট কেলেঙ্কারির স্বচ্ছ তদন্ত প্রক্রিয়া সুনিশ্চিত করা; দ্বিতীয়ত, বিতর্কিত পরীক্ষা প্রক্রিয়ার সংস্কার করে শিক্ষার্থীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং তৃতীয়ত, রাজপথে নেমে আসা ক্ষুব্ধ তরুণ প্রজন্মকে আশ্বস্ত করা।
প্রলহাদ জোশীর মতো বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদের কাঁধে শিক্ষা মন্ত্রকের দায়িত্ব অর্পণ করে কেন্দ্র সরকার পরিষ্কার বার্তা দিতে চাইছে যে, তারা এই প্রশাসনিক কেলেঙ্কারিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও আরএসএস-এর সাথে গভীর সম্পর্কের মেলবন্ধনে প্রলহাদ জোশী কীভাবে এই অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠেন এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুনর্গঠিত করেন, এখন সে দিকেই তাকিয়ে রয়েছে দেশের সমগ্র ছাত্রসমাজ ও রাজনৈতিক মহল।
বাংলাকাল-কে ফলো করুন
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
