শিক্ষার্থীদের সমর্থনে বলিউডের ‘দেরি’! ভাইরাল রিল রিশেয়ার করে তীব্র খোঁচা সানিয়া মির্জার

শিক্ষার্থীদের সমর্থনে বলিউডের ‘দেরি’! ভাইরাল রিল রিশেয়ার করে তীব্র খোঁচা সানিয়া মির্জার

মুম্বই, ২৫ জুলাই: দেশের যেকোনো সামাজিক বা রাজনৈতিক ইস্যুতে রূপোলি পর্দার তারকাদের নীরবতা অথবা বিলম্বে প্রতিক্রিয়া দেখানো নিয়ে বিতর্কের ইতিহাস নতুন নয়। বারবার সাধারণ মানুষের প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলিউড তারকাদের এই মনোভাব। এবার সেই একই ইস্যুতে বলিপাড়ার নামী ব্যক্তিত্বদের খোঁচা দিয়ে বিতর্কের সলতে পাকিয়ে দিলেন ভারতের কিংবদন্তি টেনিস তারকা সানিয়া মির্জা। নেটদুনিয়ায় সাড়া ফেলে দেওয়া একটি রিল নিজের সোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে রিশেয়ার করে বলিউডকে সরাসরি নিশানা করলেন ছয়বারের গ্র্যান্ড সল্যাম জয়ী এই প্রাক্তন খেলোয়াড়।

সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে একটি ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও (Reel) ব্যাপক ভাইরাল হয়। ভিডিওটির মূল বিষয়বস্তু ছিল— দেশের কোনো সংকটজনক মুহূর্তে, বিশেষ করে ছাত্রসমাজ যখন কোনো আন্দোলনের মুখোমুখি হয় বা তাদের অধিকারের দাবিতে সরব হয়, তখন কীভাবে বলিপাড়ার তারকারা নিরুত্তাপ ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে জল ঘোলা হলে বা পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে তারকাদের তরফে যে গতে বাঁধা ও নিরাপদ প্রতিক্রিয়া আসে, তাকেই এই রিলে কটাক্ষ করা হয়েছে। সানিয়া মির্জা সেই রিলটি নিজের সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে পুনর্বার শেয়ার (Repost) করেন। এর পর থেকেই নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে নেটপাড়ায়।

সানিয়া মির্জার এই পদক্ষেপের পর নেটদুনিয়ায় মিশ্র ও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বহু নেটিজেন টেনিস তারকার এই প্রচ্ছন্ন বিরোধিতাকে সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, দেশে যখনই শিক্ষার্থী বা যুবসমাজ কোনো অন্যায় বা সংকটের মুখোমুখি হয়, তখন বলিউডের শীর্ষস্থানীয় তারকারা অদ্ভুত নীরবতা বজায় রাখেন। অথচ নিজেদের ছবি মুক্তির সময় কিংবা কোনো প্রচারমূলক কর্মসূচিতে সোশাল মিডিয়ায় তাঁদের সক্রিয়তা থাকে তুঙ্গে। পরবর্তীতে যখন কোনো বিষয় সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে বড় আকার ধারণ করে, তখন বাধ্য হয়ে বা লোকদেখানোভাবে কিছু অস্পষ্ট বার্তা পোস্ট করা হয়। রিলে তুলে ধরা এই বাস্তব সত্যকেই সানিয়া সমর্থন করায় বহু সাধারণ মানুষ ও অনুরাগী তাঁর সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন।

অতীতেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শিক্ষার্থী আন্দোলন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ বা ছাত্র-নিপীড়নের মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় বলিউডের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বহু ক্ষেত্রে অভিযোগ উঠেছে, নিজেদের কাজের বাণিজ্যিক স্বার্থ এবং প্রশাসনের অসন্তোষ এড়াতেই রূপোলি পর্দার প্রতিনিধিরা কোনো জোরালো মন্তব্য থেকে বিরত থাকেন। যখন পরিস্থিতি কিছুটা থিতিয়ে আসে, তখন নিতান্তই নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে দু-একটি পোস্ট করতে দেখা যায় অনেককে। সানিয়ার শেয়ার করা রিলেও তারকাদের এই ‘বিলম্বিত প্রতিক্রিয়া’ বা ‘ডিলেড সাপোর্ট’ (Delayed Support)-কেই ব্যঙ্গ করা হয়েছে। ক্রীড়াজগতের একজন শীর্ষস্তরের ব্যক্তিত্ব হয়ে সানিয়া যেভাবে বিনোদন জগতের এই দ্বিচারিতাকে তুলে ধরেছেন, তা নিঃসন্দেহে বিরল ও তাৎপর্যপূর্ণ।

সানিয়া মির্জা নিজে সব সময় সোশাল মিডিয়ায় বেশ সক্রিয় এবং বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে তিনি বরাবরের মতোই ঠোঁটকাটা বলেই পরিচিত। যদিও তিনি রিলটি রিশেয়ার করে কোনো বাড়তি ক্যাপশন দেননি, তবুও তাঁর এই একটি পদক্ষেপই স্পষ্ট করে দিয়েছে তাঁর অবস্থান। ক্রীড়াজগৎ থেকে বিনোদন জগতের প্রতি এমন সূক্ষ্ম অথচ ধারালো আক্রমণ সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যায়নি। তবে বলিউডের অনুরাগী ও একাংশের মতে, শিল্পীদের সব সময় প্রতিটি ইস্যুতে মতামত জানানো বাধ্যতামূলক হতে পারে না। তবুও সাধারণ মানুষের চোখ এড়ায়নি এই কটাক্ষ। বলিপাড়ার নীরবতা বনাম সময়োপযোগী সোশাল মিডিয়া প্রতিক্রিয়ার এই সংঘাত সানিয়ার কারণে ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply