বন্দে মাতরম বাধ্যতামূলক করার বিরোধিতায় শিখ নেতৃত্ব, সাংবিধানিক অধিকারের সওয়াল

বন্দে মাতরম বাধ্যতামূলক করার বিরোধিতায় শিখ নেতৃত্ব, সাংবিধানিক অধিকারের সওয়াল

নয়াদিল্লি, ২৩ আগস্ট:

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত ‘বন্দে মাতরম’ গানটিকে বাধ্যতামূলক জাতীয় সঙ্গীত করার সরকারি উদ্যোগের বিরুদ্ধে স্পষ্ট আপত্তি জানালেন শিরোমণি অকালি দল (অমৃতসর)-এর শীর্ষ নেতা ইমান সিংহ মান। তাঁর দাবি, এই গানের পরবর্তী স্তবকগুলিতে দেবী দুর্গার বন্দনা ও মহিমা প্রচার করা হয়েছে, যা শিখ ধর্মের এক ঈশ্বর বা ‘ইক ওঙ্কার’-এর মূল ভাবধারা এবং মূর্তিপূজা বিরোধী আদর্শের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। ফলে এটি সবার ওপর বাধ্যতামূলক করা ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর আঘাতের শামিল।

২০২৬ সালে বন্দে মাতরমের সার্ধশতবর্ষ উপলক্ষে গানটির মোট ছয়টি স্তবককেই জাতীয় সম্মান সংক্রান্ত আইনের আওতায় বাধ্যতামূলক করার সরকারি তৎপরতা ও বিল নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ভারতের বহুধর্মীয় সামাজিক বাস্তবতার কথা মাথায় রেখে ১৯৩৭ সালে কংগ্রেস এবং পরবর্তীতে গণপরিষদ সর্বসম্মতিক্রমে গানটির প্রথম দুটি স্তবককে গ্রহণ করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

মুসলিম সংগঠনগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকেও সরকারের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। মহাত্মা গান্ধী ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো জাতীয় নেতারাও ভারতের ধর্মীয় বহুত্ববাদ ও সম্প্রীতি রক্ষার স্বার্থেই বন্দে মাতরমের সংক্ষিপ্ত রূপকে সমর্থন জানিয়েছিলেন। ফলে শতাব্দী প্রাচীন সেই ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থান ভেঙে সম্পূর্ণ গানটি বাধ্যতামূলক করা হলে তা ধর্মীয় বহুত্ববাদের পরিপন্থী হবে বলে বিভিন্ন মহল থেকে সতর্ক করা হচ্ছে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply