মালদা, ২৩ আগস্ট:
রাজ্য সরকারের অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্পের আর্থিক সহায়তার অর্থ পেতে দেরি হওয়ায় চরম অর্থসংকটে ভুগে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন মালদার এক গৃহবধূ। মৃতার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, প্রকল্পের টাকা না মেলায় এবং দফতরে বারবার ঘুরেও সমাধান না পাওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। শনিবার মালদার গাজোল ব্লকের করকচ গ্রাম পঞ্চায়েতের বাচাহার গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।
মৃত গৃহবধূর নাম অনিতা খাতুন (৩২)। তিনি পেশায় দিনমজুর ইনজামামুল হকের স্ত্রী। তাঁদের ১০ ও ৬ বছর বয়সী দুটি সন্তান রয়েছে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দিনমজুরি করে যা আয় হতো, তা দিয়ে চারজনের সংসার চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছিল। এর আগে তৃণমূল সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের মাসিক ভাতা পরিবারটিকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে তিনি অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্পের জন্য আবেদন করেন।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদন করার পর তিনি একবার মাসিক ভাতা পেয়েছিলেন। কিন্তু তারপর থেকেই অর্থ পাওয়ার বিষয়টি অনিয়মিত হয়ে পড়ে এবং বিগত দুই মাস ধরে তাঁর অ্যাকাউন্টে কোনো টাকাই আসেনি। প্রকল্পের সব নথি ঠিক থাকা সত্ত্বেও কেন টাকা ঢুকছে না, তা জানতে তিনি স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত দফতর এবং ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকের কার্যালয়ে একাধিকবার ছুটে গিয়েছিলেন। তবে সেখানে বারবার গিয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি।
প্রতিদিনের মতো শনিবার সকালে স্বামী ইনজামামুল কাজে বেরিয়ে যান এবং সন্তানরা স্কুলে চলে যায়। সেই সময় বাড়িতে একাই ছিলেন অনিতা। সকাল আনুমানিক দশটা নাগাদ তিনি বারান্দার সিলিংয়ের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে চরম পদক্ষেপ নেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি দেখতে পান এবং স্বামী খবর পেয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। খবর পেয়ে গাজোল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
ঘটনার তদন্তে নেমে গাজোল থানার পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে। পুলিশের এক পদস্থ আধিকারিক জানান, ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, প্রকল্পের ফর্ম পূরণ এবং পারিবারিক নানা টানাপোড়েন নিয়েও কিছু সমস্যা ছিল। পুরো বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় তৃণমূল নেতা মোসারেকুল রহমান অভিযোগ করেছেন, সরকারি প্রকল্পের প্রতিশ্রুত অর্থ সময়মতো না মেলার কারণে তৈরি হওয়া তীব্র মানসিক ও আর্থিক চাপই ওই গৃহবধূকে এমন মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

