নয়াদিল্লি, ২৬ আগস্ট:
লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের পদ খারিজের আবেদন দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে রয়েছে।এই আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তির দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।তাঁর দায়ের করা রিট পিটিশনের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দেশের শীর্ষ আদালত ওই ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের কাছে জবাব তলব করে নোটিশ জারি করেছে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ এই মামলার শুনানি করে।শুনানির সময় বেঞ্চ প্রথমে লোকসভার স্পিকারকেও নোটিশ পাঠাতে চেয়েছিল।কিন্তু স্পিকার এবং লোকসভার সেক্রেটারি জেনারেলের হয়ে আদালতে উপস্থিত থাকা সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান যে, তিনি সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করছেন।তিনি শীর্ষ আদালতকে জানান যে, স্পিকারের কার্যালয় থেকে ইতিমধ্যেই ওই ২০ জন সাংসদকে পদ খারিজের আবেদনের ভিত্তিতে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
সলিসিটর জেনারেলের এই বক্তব্যের পর বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী মন্তব্য করেন যে, আদালত কোনো সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সরাসরি নির্দেশ দিতে চায় না।তবে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যাতে এই বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হয়, তা নিশ্চিত করাই আদালতের মূল উদ্দেশ্য।বিচারপতি বাগচী স্পষ্ট করে দেন যে শুধু নোটিশ দেওয়াটাই মূল কথা নয়, একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটির নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন।এরপরই শীর্ষ আদালত স্পিকারকে নোটিশ পাঠানো থেকে বিরত থেকে লোকসভার সেক্রেটারি জেনারেল এবং সংশ্লিষ্ট সাংসদদের নোটিশ পাঠায়।
এই ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের মধ্যে রয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়নী ঘোষ, দীপক দেব অধিকারী, ইউসুফ পাঠান, জুন মালিয়া সহ অন্যান্যরা।জানা গিয়েছে, সাম্প্রতিক নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে জয়লাভ করার পর এই সাংসদরা ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই নামক একটি দলে যোগ দেন।তাঁরা লোকসভায় একটি পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতির দাবিও জানিয়েছিলেন।সদ্য সমাপ্ত বাদল অধিবেশনে তাঁদের লোকসভায় আলাদা বসার জায়গাও দেওয়া হয়েছিল।
সংবিধানের দশম তফসিল বা দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় এই সাংসদদের পদ খারিজ করার জন্য স্পিকারের কাছে আবেদন জানিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস।গত ১৮ জুন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভার স্পিকারের কাছে এই বিষয়ে প্রথম আবেদন জমা দেন।এরপর স্পিকারের তরফে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হওয়ায় তিনি শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন।
সুপ্রিম কোর্টের নোটিশ জারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লোকসভার সচিবালয় থেকে তৎপরতা শুরু হয়।স্পিকারের কার্যালয় থেকে ওই ২০ জন সাংসদের কাছে পৃথকভাবে নোটিশ পাঠিয়ে তৃণমূলের দায়ের করা পদ খারিজের আবেদনের বিষয়ে আগামী সাত দিনের মধ্যে জবাব জমা দিতে বলা হয়েছে।সাংসদদের পাঠানো এই উত্তরগুলি বিবেচনা করার পর লোকসভার স্পিকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

