বেঙ্গালুরু, ২৩ জুলাই: ভারতের বিচারবিভাগীয় ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ও নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে কর্ণাটকে। আদালতের ভেতরে তৈরি হওয়া মারাত্মক প্রশাসনিক অচলাবস্থার (Administrative Collapse) তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে কর্ণাটক হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে সরাসরি ক্ষোভ উগরে দিল ‘অ্যাডভোকেটস অ্যাসোসিয়েশন বেঙ্গালুরু’ (AAB)। আইনজীবীদের এই শীর্ষ সংগঠনের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে আদালত পরিচালনার ক্ষেত্রে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে, যা বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষ এবং আইনজীবীদের জন্য এক অসহনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে এবং হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কার্যপদ্ধতির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই বড়সড় বিক্ষোভ ও ধর্না কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ আইনজীবীরা।
বেঙ্গালুরু আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে পেশ করা মারাত্মক সব অভিযোগে বলা হয়েছে, কর্ণাটকের নিম্ন আদালত থেকে শুরু করে হাইকোর্ট— সর্বত্রই প্রশাসনিক কাজকর্ম কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। মামলা তালিকাভুক্ত করা, শুনানি নির্ধারণ এবং প্রশাসনিক ফাইল স্থানান্তরের ক্ষেত্রে প্রবল গাফিলতি ও অনিয়ম দেখা যাচ্ছে। সংগঠনের মতে, কোনো একটি বিচার বিভাগীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা যেভাবে সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হওয়ার কথা, বর্তমান প্রধান বিচারপতির অধীনে সেটি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।
আইনজীবী সংগঠনের শীর্ষ কর্তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এই বিষয়গুলো নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে আলোচনার চেষ্টা করা হলেও কোনো গঠনমূলক সমাধান মেলেনি। বরঞ্চ দিনের পর দিন অচলাবস্থা আরও তীব্রতর হয়েছে। ফলে বিচার প্রক্রিয়ায় চরম বিলম্ব ঘটছে, যা সরাসরি সংবিধানের দেওয়া দ্রুত বিচার পাওয়ার অধিকারকে ক্ষুণ্ন করছে এবং সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে মূলত একাধিক বিষয়ের ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো:
- স্বচ্ছতার অভাব: সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়াম বা হাইকোর্টের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সম্প্রতি বিচারপতিদের স্থানান্তরের বিষয়সহ একাধিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রয়োজনীয় স্বচ্ছতার অভাব ছিল বলে অভিযোগ তুলেছে সংগঠন।
- মামলার শুনানিতে জটিলতা: গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর তালিকাভুক্তি (Listing) নিশ্চিত করতে আইনজীবী ও সাধারণ মানুষকে দিনের পর দিন হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
- একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণের নীতি: বিচার বিভাগের শীর্ষ পদাধিকারীদের একাংশ আইনজীবীদের সংগঠনের মতামতকে তোয়াক্কা না করে একতরফা সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
আইনজীবীরা মনে করছেন, প্রধান বিচারপতির এই ধরণের প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণেই সাধারণ মানুষের কাছে বিচারব্যবস্থার যে ভরসা রয়েছে, তা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এই প্রশাসনিক ধস ও অচলাবস্থার প্রতিবাদে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে অ্যাডভোকেটস অ্যাসোসিয়েশন বেঙ্গালুরু। আইনি পেশার সম্মান রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের বিচার পাওয়ার পথ সুগম করতে তারা প্রধান বিচারপতির প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সমিতির সাধারণ সভা ডেকে পরবর্তী বড় পদক্ষেপ এবং প্রয়োজনে পুরো আদালত বয়কট বা রাজপথে নেমে বৃহত্তর আন্দোলনের কথা ভাবছেন সংগঠনের প্রবীণ সদস্য ও আইনজীবীরা। একই সাথে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ও কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রকের কাছেও এই বিষয়ে জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি পাঠানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সব মিলিয়ে বেঙ্গালুরুর আইনি অঙ্গনে এখন চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
বাংলাকাল-কে ফলো করুন
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
