ভোপাল, ২৩ জুলাই: মধ্যপ্রদেশের রাজনীতিতে উত্তাপ এখন চরমে। রাজ্য বিধানসভা থেকে শুরু করে রাজপথ—বিজেপি মন্ত্রী কৈলাশ বিজয়বর্গীয়র একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাত চরম রূপ ধারণ করেছে। এর মধ্যেই সোশাল মিডিয়ায় একটি নতুন ভিডিও পোস্ট করে এই বিতর্কের আগুনে ঘি ঢেলেছেন বিশিষ্ট ফ্যাক্ট-চেকার মহম্মদ জুবায়ের। সেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, সংবাদমাধ্যমের সামনে মধ্যপ্রদেশের বিজেপি মন্ত্রী কৈলাশ বিজয়বর্গীয়র বিরুদ্ধে সুর চড়াতেই এক ব্যক্তিকে পুলিশের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।
তথ্য-যাচাইকারী মহম্মদ জুবায়ের সম্প্রতি একটি ভিডিও ফুটেজ সামনে এনেছেন, যা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, জনবহুল রাস্তার ওপর সংবাদমাধ্যমের একঝাঁক মাইকের সামনে সাদা শার্ট পরা এক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন। তিনি যখনই দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে কৈলাশ বিজয়বর্গীয়র কথিত মন্তব্যের প্রসঙ্গ তোলেন, ঠিক তখনই সেখানে পুলিশ আধিকারিকরা এসে পৌঁছান এবং তাঁকে কথা বলতে বাধা দেন।
ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা গেছে, পুলিশকর্মীরা একরকম জোর করেই ওই ব্যক্তির বক্তব্য থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এর ফলে সেখানে উপস্থিত ভিড়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। তবে পুলিশি বাধার তোয়াক্কা না করেই উপস্থিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা পুরো ঘটনাটি ক্যামেরাবন্দি করতে থাকেন। এই ঘটনার ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় প্রকাশ পেতেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিরোধীরা।
এই সম্পূর্ণ বিতর্ক ও রাজনৈতিক তরজার মূল সূত্রপাত হয়েছিল গত ২২ জুলাই মধ্যপ্রদেশ বিধানসভায়। অধিবেশন চলাকালীন কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয় যে, মধ্যপ্রদেশের ক্যাবিনেট মন্ত্রী কৈলাশ বিজয়বর্গীয় দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অসংবেদনশীল ভাষায় আক্রমণ করেছেন। বিরোধী দলনেতা উমঙ্গ সিঙ্ঘারের অভিযোগ, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘পোকা’ (কীড়া) এবং ‘ককোরোচ জনতা পার্টি’ বলে কটাক্ষ করেছেন ওই প্রবীণ বিজেপি নেতা।
কংগ্রেসের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এই ধরনের আপত্তিকর মন্তব্য দেশের তরুণ সমাজ ও ছাত্র সমাজকে চরম অপমান করার শামিল। এই ইস্যুতে বিধানসভার ভেতর ও বাইরে সরব হয়েছে কংগ্রেস এবং যতক্ষণ না পর্যন্ত মন্ত্রী প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।
কংগ্রেসের এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে উড়িয়ে দিয়েছেন মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রী কৈলাশ বিজয়বর্গীয়। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে এই ধরনের কোনো মন্তব্য করেননি। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “আমি এমন কোনো কথা বলিনি। বিরোধীরা পরিকল্পিতভাবে শিক্ষার্থীদের মনে আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে।”
নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার পাশাপাশি কংগ্রেস নেতাদের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন এই বিজেপি নেতা। তাঁর ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করার অপরাধে কংগ্রেস নেতাদের বিরুদ্ধে তিনি আইনি ব্যবস্থা নেবেন এবং মানহানির মামলা (Defamation Suit) দায়ের করবেন বলেও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন।
একদিকে বিধানসভায় কংগ্রেসের লাগাতার বিক্ষোভ এবং অন্যদিকে সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া পুলিশের বাধা দেওয়ার ভিডিও—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রদেশের রাজনীতিতে কৈলাশ বিজয়বর্গীয়কে কেন্দ্র করে জলঘোলা আরও বাড়ছে।
বাংলাকাল-কে ফলো করুন
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
