আহমেদাবাদ, ২৮ আগস্ট:
গুজরাটের আহমেদাবাদে প্রকাশ্য বই পাঠের আসরে চড়াও হয়ে হামলা চালানো এবং পাকিস্তানি অধিকারকর্মী মালালা ইউসুফজাই ও হলোকস্টের শিকার অ্যান ফ্রাঙ্কের লেখা বই ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরং দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে। বস্ত্রাপুরের ঔডা গার্ডেনে আয়োজিত ওই পাঠচক্রে স্লোগান দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির পাশাপাশি উপস্থিত পাঠকদের মারধর করা হয় বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় অন্তত ছয় জন আহত হয়েছেন।
‘স্টুডেন্টস অ্যান্ড ইয়ুথ কালেকটিভ, আহমেদাবাদ’ নামের সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এই পাঠচক্রে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন উপস্থিত ছিলেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হঠাৎই ৩০ থেকে ৫০ জন হিন্দুত্ববাদী কর্মী গেরুয়া উত্তরীয় পরে বেসবল ব্যাট ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সেখানে চড়াও হন। তারা সেখানে পাঠরত ‘আই অ্যাম মালালা’ এবং ‘দ্য ডায়েরি অফ আ ইয়াং গার্ল’ বই দুটি কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলেন এবং পাঠকদের ওপর চড়াও হন। পুরো ঘটনাটি পরে হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, আক্রমণকারীদের মধ্য থেকে একজন আপত্তিকর সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করে উপস্থিতদের পরিচয় পরীক্ষার হুমকি দিচ্ছেন। পরবর্তীতে বস্ত্রাপুর থানায় বজরং দলের সদস্য হীরেন রবারি ও জিমিত রবারির নাম উল্লেখ করে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। সংগঠনের সদস্যরা হামলার ফলে আহত হওয়া এবং ছেঁড়া বইয়ের ছবি প্রকাশ করেছেন।
এই ঘটনার সূত্রপাত আহমেদাবাদের শীলাজ এলাকার আনন্দ নিকেতন স্কুলের একটি বিতর্ককে কেন্দ্র করে। গত ১১ আগস্ট স্কুলের ক্যান্টিনের খাবারে কাচের মতো টুকরো পাওয়ার পর অষ্টম শ্রেণির এক পড়ুয়া অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। এই ঘটনায় অভিভাবকদের প্রতিবাদের পরেই হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি স্কুলের লাইব্রেরিতে থাকা মালালা ইউসুফজাই ও অ্যান ফ্রাঙ্কের বই দুটি নিয়ে আপত্তি তোলে। অভিযোগ ওঠে, বজরং দল ও ভিএইচপির কর্মীরা স্কুলের গেট টপকে ভেতরে ঢুকে জয় শ্রীরাম স্লোগান দেন এবং স্কুল কর্তৃপক্ষকে হুমকি দেন।
বিক্ষোভ চলাকালীন হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির ব্যানারে প্রশ্ন তোলা হয় কেন স্কুলে স্বামী বিবেকানন্দ বা বেদের শিক্ষার পরিবর্তে অহিন্দু শিক্ষকদের নিয়োগ করা হয়েছে এবং ইসলামিক বার্তা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আহমেদাবাদ জেলা শিক্ষা আধিকারিক আর এম চৌধুরী স্কুল কর্তৃপক্ষকে শোকজ নোটিস পাঠান। শিক্ষা দপ্তর থেকে অভিযোগ করা হয় যে নির্দিষ্ট বই পড়ানোর জন্য অভিভাবকদের কাছ থেকে বাড়তি অর্থ নেওয়া হচ্ছিল, যদিও এই সংক্রান্ত কোনো লিখিত অভিযোগের কপি প্রকাশ করা হয়নি।
বিতর্কের মুখে স্কুল কর্তৃপক্ষ ক্যান্টিন পরিচালনাকারীকে বরখাস্ত করে ক্যান্টিন বন্ধ করে দেয় এবং লাইব্রেরি থেকে বই দুটি সরিয়ে নিয়ে লাইব্রেরি তত্ত্বাবধায়ককে বরখাস্ত করে। স্কুলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে বই দুটি পাঠ্যক্রমের অংশ ছিল না, বরং স্কুলের বুক ক্লাবের পড়ার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল। লাইব্রেরিতে বীর সাভারকর এবং দালাই লামার বইও রয়েছে। পাশাপাশি বাড়তি অর্থ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, রেগুলেটরি কমিটির নিয়ম মেনেই নির্দিষ্ট অর্থ নেওয়া হয়। স্কুলের শিক্ষকরা জানিয়েছেন, বুক ক্লাবে ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণন, ড. এ পি জে আব্দুল কালাম এবং রানি লক্ষ্মীবাঈয়ের বইও রাখা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধ শেখানোই তাদের উদ্দেশ্য।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

