গোদি মিডিয়া হায় হায়’ স্লোগানে উত্তাল বিক্ষোভ, CJP আন্দোলনে টিভি সাংবাদিকদের ঘিরে ক্ষোভ

গোদি মিডিয়া হায় হায়’ স্লোগানে উত্তাল বিক্ষোভ, CJP আন্দোলনে টিভি সাংবাদিকদের ঘিরে ক্ষোভ

নয়াদিল্লি: NEET-UG পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা Cockroach Janta Party বা CJP-র নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভে এবার মূলধারার টেলিভিশন সংবাদমাধ্যমকে ঘিরে তীব্র ক্ষোভের ছবি সামনে এসেছে। Alt News-এর ৪ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিক্ষোভস্থলে একাধিক টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিকদের ‘গোদি মিডিয়া হায় হায়’ স্লোগানের মুখে পড়তে হয়। কোথাও কোথাও সাংবাদিকদের হেনস্তা এবং ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লির যন্তর মন্তর ও আশপাশের বিক্ষোভস্থলে NDTV, News X, ABP News এবং Times Now-সহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকরা বিক্ষোভকারীদের প্রশ্নের মুখে পড়েন। কয়েকটি ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। Times Now-এর সাংবাদিক দেব কোটাককে ভিড়ের মধ্যে হেনস্তা করা হয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মুম্বইয়ে Zee News-এর এক সাংবাদিককেও বিক্ষোভকারীদের কটূক্তির মুখে পড়তে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে।

কেন সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে ক্ষোভ?

Alt News-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশের অভিযোগ—মূলধারার টেলিভিশন সংবাদমাধ্যম সাধারণ মানুষের সমস্যা ও সরকারের জবাবদিহির প্রশ্নকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে না। প্রশ্নফাঁস, নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম, বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি ও জনস্বাস্থ্যের মতো বিষয় নিয়ে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, টেলিভিশন চ্যানেলগুলিতে নিয়মিত সাম্প্রদায়িক বিতর্ক ও মেরুকরণমূলক আলোচনার জায়গা থাকলেও শিক্ষা, চাকরি ও পরীক্ষাব্যবস্থার মতো সরাসরি জনজীবনের সমস্যায় অনেক সময় সেই মাত্রার গুরুত্ব দেখা যায় না। এই কারণেই তরুণ প্রজন্মের একটি অংশের মধ্যে মূলধারার টেলিভিশন সংবাদমাধ্যমের প্রতি আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

আন্দোলনের খবর কীভাবে দেখানো হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন

প্রতিবেদনটিতে CJP আন্দোলনকে কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলে কীভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। Alt News-এর দাবি, কিছু টিভি সাংবাদিক ও অ্যাঙ্করের বক্তব্যে আন্দোলনকারীদের ‘দেশবিরোধী’ বা ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেখানোর প্রবণতা নিয়ে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আন্দোলন চলাকালীন কিছু সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টিংকে বিক্ষোভকারীরা দিল্লি পুলিশ ও সরকারের বক্তব্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বলে মনে করেছিলেন। তবে সংবাদমাধ্যমগুলোর পক্ষ থেকে তাদের অবস্থান ছিল—তারা ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ও মাটির খবরই তুলে ধরছিল।

সাংবাদিকদের হেনস্তা নিয়েও বিতর্ক

তবে সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে ক্ষোভ থাকলেও সাংবাদিকদের শারীরিকভাবে হেনস্তা বা আক্রমণ করার ঘটনাকে সমর্থন করা যায় কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। Alt News-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু সাংবাদিককে ধাক্কা দেওয়া, তাড়া করা বা শারীরিকভাবে হেনস্তা করার ভিডিও সামনে এসেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টিং নিয়ে প্রতিবাদ বা সমালোচনা গণতান্ত্রিক অধিকারের অংশ হলেও শারীরিক আক্রমণ বা ভয় দেখানো গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ, এ ধরনের পরিবেশ তৈরি হলে সৎভাবে কাজ করা সাংবাদিকরাও একই ধরনের হেনস্তার শিকার হতে পারেন।

দিল্লির পাশাপাশি কলকাতাতেও উত্তেজনা

Alt News-এর প্রতিবেদনে কলকাতার একটি ঘটনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ২৪ জুলাই যন্তর মন্তরের আন্দোলনের সমর্থনে কলকাতায় একটি মিছিলের পর মূলধারার সংবাদমাধ্যমের কয়েকজন সাংবাদিককে ধাক্কাধাক্কি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে CJP আন্দোলনকে ঘিরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে মূলধারার টেলিভিশন সংবাদমাধ্যমের সংঘাত একটি বড় প্রশ্ন সামনে এনেছে—সাংবাদিকদের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা কেন কমছে এবং সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে কেন এত তীব্র ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে?

Alt News-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই ক্ষোভ শুধু নির্দিষ্ট কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে নয়; বরং মূলধারার টেলিভিশন সংবাদমাধ্যমের একটি অংশের সম্পাদকীয় ভূমিকা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ। একইসঙ্গে প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে শারীরিক হেনস্তাকে কোনোভাবেই স্বাভাবিক বা গ্রহণযোগ্য প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা উচিত নয়।

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply