কংগ্রেস কি শেষ বাঁকুড়ায় ?
বিষ্ণুপুর:
কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে। দিল্লি থেকে আসা দলের অবজারভার মাকসুদ খানের সামনে শক্তি প্রদর্শনের জন্য বাইরে থেকে লোক জড়ো করার অভিযোগ উঠেছে জেলা কংগ্রেসের নেতা দেবী প্রসাদ চ্যাটার্জীর বিরুদ্ধে।
অভিযোগ, গত ২৪ আগস্ট ২০২৬ বিষ্ণুপুরে কংগ্রেসের অবজারভারের উপস্থিতিতে বিপুল সংখ্যক মহিলাকে নিয়ে আসা হয়। তাঁদের মধ্যে অনেকেই পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দা এবং কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁদের সরাসরি কোনো রাজনৈতিক যোগ নেই বলেও দাবি করা হচ্ছে।
স্থানীয়ভাবে উঠে আসা অভিযোগ অনুযায়ী, ওই মহিলাদের মধ্যে কয়েকজনকে ১০০ থেকে ২০০ টাকা দেওয়া হবে এবং খাবার খাওয়ানো হবে—এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে সেই টাকা না পাওয়ার অভিযোগ ওঠে। এরপরই কয়েকজন মহিলা এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য সামনে আসতে শুরু করেছে।
তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়, বরং টাকা ও খাবারের প্রতিশ্রুতির কারণেই তাঁরা সেখানে গিয়েছিলেন। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা এখনও সম্ভব হয়নি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠছে—দিল্লি থেকে আসা কংগ্রেসের অবজারভারের সামনে দলের সাংগঠনিক শক্তি দেখাতেই কি বাইরে থেকে মানুষ নিয়ে আসা হয়েছিল? নাকি এর পিছনে রয়েছে কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই?
বিষ্ণুপুরে কংগ্রেসের সাংগঠনিক নেতৃত্বে কার প্রভাব থাকবে, কে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকবেন এবং কার রাজনৈতিক কর্তৃত্ব কমবে—তা নিয়েও দলের অন্দরে আলোচনা চলছে বলে খবর।
এরই মধ্যে ২৫৫ নম্বর বিষ্ণুপুর বিধানসভার কংগ্রেস প্রার্থী উজ্জ্বল চন্দ্র দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “দল যেমন সিদ্ধান্ত নেবে, তা মেনে নেব। তবে গাদ্দারদের স্থান যেন ড্রেনের ভিতর হয়।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
তবে দেবী প্রসাদ চ্যাটার্জীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ক্ষেত্রে তাঁর বক্তব্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগের বিষয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানা গেলে পুরো বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
২৪ আগস্টের জমায়েতকে ঘিরে ওঠা এই অভিযোগ এখন বিষ্ণুপুরের কংগ্রেস রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। সত্যিই কি রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের জন্য বাইরে থেকে মানুষ আনা হয়েছিল, নাকি দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব থেকেই এই অভিযোগের সূত্রপাত—তার উত্তর মিলবে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য এবং তথ্য যাচাইয়ের পরেই।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
