নিউ মার্কেটের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, শুভেন্দুর সরকারকে তীব্র আক্রমণ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্করের

নিউ মার্কেটের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, শুভেন্দুর সরকারকে তীব্র আক্রমণ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্করের

কলকাতা, ১৯ আগস্ট:

খাস কলকাতার বুকে নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শিশুসহ নয় জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ছয় জন। তারাপীঠের হোটেলের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এই মর্মান্তিক ঘটনায় শহরের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে। ঘটনায় ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে অধিকাংশের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। গোটা পরিস্থিতিতে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের দিকে আঙুল তুলেছে রাজ্যের বর্তমান বিজেপি প্রশাসন। তবে ক্ষমতায় আসার পর গত ১০০ দিনে নতুন সরকার কী পদক্ষেপ নিল, সেই প্রশ্ন তুলে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে কাঠগড়ায় তুললেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার।

এদিন অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে কংগ্রেস প্রতিনিধিদের একটি দলকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন শুভঙ্কর সরকার। সেখানে উপস্থিত হয়ে বর্তমান রাজ্য প্রশাসনের কড়া সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের ১০০ দিন অতিক্রান্ত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ও দলের রাজ্য সভাপতিসহ সকলে মিলে ১০০ দিন পূর্তির প্রচার করলেও প্রশাসনিক ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তাঁর কথায়, এই সরকার কোনোভাবেই ঠিকমতো কাজ চালাতে পারছে না।

শুভঙ্কর সরকার মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে বলেন, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী অতীতে সাড়ে নয় বছর তৃণমূল সরকারের মন্ত্রী ছিলেন এবং পরবর্তীতে বিরোধী দলনেতা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে কলকাতার সার্বিক পরিস্থিতি তাঁর অজানা নয়। বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন তিনি বলতেন যে তিনি সব জানেন, কিন্তু বিরোধী আসনে থাকার জন্য কিছু করতে পারছেন না। অথচ নতুন সরকার গঠনের পর ১০০ দিন কেটে গেলেও একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে চলেছে।

তারাতলার ঘটনার পর রাজ্য প্রশাসনের তরফে শহরের বিভিন্ন ভবনে অডিট করানোর কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বলেন, অডিট প্রক্রিয়ার কী ফল পাওয়া গেল তা স্পষ্ট নয়। ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় কীভাবে বেআইনিভাবে এমন হোটেল চালানো হচ্ছিল, তা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। পুরসভার বর্তমান পরিচালন ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, বোর্ড ভেঙে দেওয়ার পর পুরো প্রশাসন সঠিকভাবে নজরদারি চালাতে পারছে না। এই ঘটনায় নয়টি অমূল্য প্রাণের মৃত্যুর দায় কে নেবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

বেআইনি নির্মাণ এবং হোটেলগুলোর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে শুভঙ্করবাবু মন্তব্য করেন, তারাতলার গোডাউনের মালিক ও ছেলেকে গ্রেপ্তার করার মতো এখানেও কয়েকজনকে হয়তো গ্রেপ্তার করা হবে, তারপর বিষয়টি চাপা পড়ে যাবে। তাঁর অভিযোগ, বেআইনি নির্মাণের নামে কেবল কিছু দরিদ্র মানুষের বাড়ি ভাঙা হচ্ছে, অথচ প্রভাবশালী ও অর্থবানদের তৈরি বেআইনি বহুতলগুলোর বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগ তুলে তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমান সরকারের আমলে রাজ্যে একাধিক অপরাধমূলক ঘটনা ঘটছে। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা, নারী নিরাপত্তা এবং একের পর এক অগ্নিকাণ্ডে সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে তিনি জানান, সাধারণ মানুষের সুরক্ষার প্রশ্নে সরকার ব্যর্থ। নিউ মার্কেটের এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সত্য উদঘাটনের জন্য তিনি তিন জন বিচারপতির সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে নিউ মার্কেটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার জন্য পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে দায়ী করেছেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। পাশাপাশি গোটা ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্তের স্বার্থে প্রশাসনের তরফে একটি পাঁচ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করা হয়েছে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply