কলকাতা, ২ সেপ্টেম্বর:
তৃণমূলত্যাগী ২০ জন এনসিপিআই সাংসদের বক্তব্য জানতে চেয়ে সম্প্রতি চিঠি পাঠিয়েছিল লোকসভার সচিবালয়। কিন্তু এখনই সেই নোটিসের জবাব না দিয়ে লোকসভার সচিবালয়কে চিঠি দিয়ে আরও তিন সপ্তাহ সময় চাইলেন ওই বিদ্রোহী সাংসদরা। তৃণমূলত্যাগী এই সাংসদরা ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়ে আলাদা আলাদাভাবে সচিবালয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।
বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন এই সাংসদরা। পরবর্তীকালে তাঁরা এনসিপিআই নামক দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটকে সমর্থন জানান। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে একই সারিতে এনডিএ-র বৈঠকে বসা থেকে শুরু করে মধ্যাহ্নভোজ ও আলাপচারিতায় তাঁদের দেখা গেলেও খাতায়-কলমে এখনও তাঁরা লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ হিসেবেই রয়ে গিয়েছেন। কারণ লোকসভায় এখনও পর্যন্ত পৃথক দল হিসেবে কোনো স্বীকৃতি পাননি তাঁরা।
এই পরিস্থিতিতে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলি ঘোষ দস্তিদার সহ ওই ২০ জন দলত্যাগী সাংসদের পদ খারিজের দাবিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার দ্বারস্থ হওয়ার পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টেও গিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গত ২৫ অগাস্ট সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ ওই ২০ জন সাংসদকে নোটিস পাঠানোর নির্দেশ দেয়। আদালতের নির্দেশের পরই লোকসভার সচিবালয় দলত্যাগী সাংসদদের চিঠি পাঠিয়ে সাত দিনের মধ্যে নিজেদের বক্তব্য জানানোর নির্দেশ দিয়েছিল।
তবে সচিবালয়ের সেই নোটিসের জবাবে নিজেদের বক্তব্য পেশ না করে প্রত্যেকেই অতিরিক্ত তিন সপ্তাহ সময় চেয়ে আবেদন করেছেন। বিদ্রোহী সাংসদদের লোকসভার চিফ হুইপ কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানিয়েছেন, তাঁদের কাছে আধিকারিকের পক্ষ থেকে পাঠানো যে নোটিস এসেছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করার কাজ চলছে। পিটিশনের উপযুক্ত জবাব সম্পূর্ণ তৈরি না হওয়ার কারণেই তাঁরা তিন সপ্তাহ সময় চেয়েছেন। আরেক সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই সকলে ইমেল মারফত সময় চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন এবং পিছু হটার কোনো প্রশ্ন নেই।
এই পদক্ষেপ নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিদ্রোহী সাংসদরা অস্বীকৃত দলে যোগ দিয়ে বিজেপির সঙ্গে সখ্য গড়ে তুললেও এখন সময় চাইছেন। মহুয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার পর সাত দিনের মধ্যে যেখানে জবাব দেওয়া উচিত ছিল, সেখানে যার কাছে সঠিক উত্তর রয়েছে তার তো এক দিনেই জবাব দেওয়ার কথা। কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন বিধায়ক কুণাল ঘোষও। পরিচয় বা ঠিকানার মতো প্রাথমিক প্রশ্নের উত্তরেও যেন সময় চাওয়ার মতো আচরণ করছেন ওই সাংসদরা, এমন মন্তব্য করেন তিনি।
অন্য দিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার গোটা বিষয়টি নিয়ে দূরত্ব বজায় রেখেছেন। তাঁর বক্তব্য, এনসিপিআই একটি পৃথক রাজনৈতিক দল এবং তারা এনডিএ জোটের শরিক। তবে তাঁদের দলীয় বিষয়ে বাইরে থেকে মন্তব্য করা সাজে না এবং কেন তাঁরা সময় চেয়েছেন তা সম্পূর্ণভাবে তাঁদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। উল্লেখ্য, এই দলত্যাগ মামলার প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টেও বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছে এবং আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর শীর্ষ আদালতে এই সংক্রান্ত মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত রয়েছে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

