কলকাতা, ২ সেপ্টেম্বর:
ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিম এশিয়া। আমেরিকা ও ইরান— দু’পক্ষের মধ্যে নতুন করে শুরু হয়েছে তীব্র হামলা এবং পাল্টা হামলা। মঙ্গলবার ইরানের একাধিক এলাকায় সামরিক হামলা চালিয়েছে মার্কিন সেনা। এর পাল্টা জবাবে জর্ডন-সহ পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান। কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাত নতুন করে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আমেরিকার হামলায় দক্ষিণ ইরানের কুহেস্তাকে একটি বিয়েবাড়িতে অন্তত পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, হামলার সময় সেখানে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। এই হামলায় অন্তত ৬৮ জন আহত হয়েছেন।
আমেরিকার এই সামরিক পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে ইরানের পার্লামেন্টের ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড ফরেন পলিসি কমিটির চেয়ারম্যান এব্রাহিম আজিজি সাফ জানিয়েছেন, এই হামলার যোগ্য জবাব দেওয়া হবে। তবে আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, তাদের বাহিনী কখনও সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে আঘাত হানে না। এর জবাবে ফেব্রুয়ারি মাসে মিনাবের একটি স্কুলে মার্কিন হামলার প্রসঙ্গ টেনে এনেছে তেহরান, যেখানে বিস্ফোরণে প্রায় ১৬০ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
মার্কিন সেনার দাবি, ইরান বাণিজ্যিক জাহাজ এবং হরমুজে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। পাশাপাশি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান নতুন করে একটি রাডার ব্যবস্থা সক্রিয় করার চেষ্টা করছিল এবং সেই রাডার প্রায় প্রস্তুত হয়ে যাওয়ার পরেই এই হামলা চালানো হয়। ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তেহরান পাল্টা হামলা চালালে আরও ভয়ানক আঘাত নেমে আসবে।
আমেরিকার হামলার পরেই জর্ডনের দিকে অন্তত ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডের দাবি, জর্ডনের গাল্ফ অফ আকাবা উপকূলে থাকা একটি মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করেই এই আঘাত হানা হয়েছে। তবে জর্ডনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে এবং বাকি তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন এলাকায় গিয়ে পড়েছে।
কুয়েত প্রশাসনও জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানি ড্রোন হামলা সফলভাবে প্রতিহত করেছে। পাশাপাশি বাহরাইনে উপস্থিত মার্কিন সেনাদের নিশানা করে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান, যদিও বাহরাইনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।
এদিকে হরমুজ প্রণালী ঘিরেও সামরিক উদ্বেগ বাড়ছে। ইরানের দক্ষিণ উপকূলের বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপ এবং হরমোজগান প্রদেশের একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের খবর মিলেছে। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, একটি ফিশমিল কারখানা, মাছ ধরার ঘাট এবং কিছু বেসামরিক পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া জিরফট বিমানবন্দরে হামলার অভিযোগ উঠলেও তাদের মূল পরিকাঠামো অক্ষত রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
মঙ্গলবারের এই হামলার আগেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছিলেন, আমেরিকা একই পদক্ষেপ নিলে তেহরান জুন মাসের অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ফিরতে প্রস্তুত। কিন্তু সেই চুক্তি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। এর আগে রবিবারও আমেরিকার বাহিনী ইরানের রকেট লঞ্চার লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছিল এবং জবাবে জর্ডনে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল ইরান। নতুন করে এই সংঘাতের ফলে গোটা অঞ্চলের সুরক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বাংলাকাল-কে ফলো করুন https://www.facebook.com/BanglakalMedia
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

