খড়গপুর আইআইটি ক্যাম্পাস থেকে তরুণ অধ্যাপকের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার,

খড়গপুর আইআইটি ক্যাম্পাস থেকে তরুণ অধ্যাপকের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার,

খড়গপুর, ২৯ জুলাই: মাত্র তিন মাসের ব্যবধান। ফের এক মর্মান্তিক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটল খড়্গপুর আইআইটি-তে (IIT)। তবে এবার আর কোনো ছাত্র নন, একেবারে প্রতিষ্ঠানের এক তরুণ অধ্যাপকের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে ক্যাম্পাস চত্বর থেকে। বুধবার আইআইটির কর্মী-আবাসন বা স্টাফ কোয়ার্টার থেকে ওই অধ্যাপকের দেহ উদ্ধার করে খড়্গপুর টাউন থানার অধীন হিজলি ফাঁড়ির পুলিশ। এই আকস্মিক ও দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যুতে গোটা চত্বরে গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত ওই অধ্যাপকের মরদেহ উদ্ধার করে খড়্গপুর আইআইটির বিসি রায় হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষা মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অন্দরের নিরাপত্তা ও মানসিক চাপ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, মৃত ওই শিক্ষাবিদের নাম দীপক রেড্ডি (২৫)। তিনি খড়্গপুর আইআইটির ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর মূল বাড়ি হায়দরাবাদে। বুধবার আইআইটি ক্যাম্পাসের ২বিআর-১৪ নম্বর রুম থেকে তাঁর দেহটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে যে, ওই কোয়ার্টারে তিনি একাই বসবাস করতেন। ঠিক কী কারণে এই চরম পদক্ষেপ নিলেন তিনি, কিংবা তিনি পেশাগত বা অন্য কোনো মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে খড়্গপুর টাউন থানার পুলিশ।

এই ঘটনার পরেই খড়্গপুর আইআইটি চত্বরে অতীতে ঘটে যাওয়া অনুরূপ বেশ কিছু আত্মহত্যার স্মৃতি ফের ভেসে উঠেছে। ঠিক তিন মাস আগে, গত ২৮ এপ্রিল খড়্গপুর আইআইটিতে ২২ বছর বয়সি এক ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়ার দেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। সেই মৃত ছাত্রের নাম সোহম হালদার, যিনি উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের শালবাগান এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। সেদিনও সকালের দিকে ছাত্রটির ঘরের দরজা না খোলায় নিরাপত্তারক্ষীদের সন্দেহ হয় এবং পরবর্তীতে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়।

তাছাড়া, তারও আগে গত ১৮ এপ্রিল ২১ বছরের এক তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বারান্দা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন। একের পর এক এমন ঘটনায় আইআইটির মতো প্রথম সারির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে ওয়াকিবহাল মহলের।

ঘটনার খবর পেয়েই স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও আইআইটি কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে। অধ্যাপকের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার প্রক্রিয়া চলছে। কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতির মধ্যে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং পুলিশের সামগ্রিক তদন্তের পরই তা স্পষ্টভাবে সামনে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply