নদিয়ার কালীগঞ্জে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে বুধবার তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তৃণমূলের কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ মহুয়া মৈত্র অভিযোগ করেন, তাঁর দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে আসা একদল ব্যক্তি ডিম, সবজি ও অন্যান্য বস্তু ছুড়ে হামলার চেষ্টা করে। ঘটনার পর তিনি দাবি করেন, বিক্ষোভকারীরা সাধারণ মানুষ নন, তাঁরা বিজেপির কর্মী এবং পরিকল্পিতভাবে তাঁকে লক্ষ্য করেই এই কর্মসূচি চালানো হয়।
মহুয়া মৈত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি যখন দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন, তখন বাইরে বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারী জড়ো হন। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁকে দীর্ঘ সময় কার্যালয়ের ভেতরেই থাকতে হয়। তাঁর অভিযোগ, কয়েক ঘণ্টা ধরে কার্যালয় কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখা হয় এবং বাইরে থেকে ক্রমাগত স্লোগান দেওয়া হয়।
ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন মহুয়া মৈত্র। সেই ভিডিওর সঙ্গে তিনি দাবি করেন, হামলাকারীরা সাধারণ প্রতিবাদকারী নন, বরং বিজেপির কর্মী। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে ভয় দেখানো এবং জনসংযোগ কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার লক্ষ্যেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তিনি প্রশাসনের কাছে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান।
অন্যদিকে, বিজেপি এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে। দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, এই ঘটনায় বিজেপির কোনও ভূমিকা নেই। তাঁর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং স্থানীয় অসন্তোষ থেকেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে বিজেপিকে দোষারোপ করার উদ্দেশ্যেই মহুয়া মৈত্র এই অভিযোগ করছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে তৃণমূলের অভিযোগ, বিরোধী দলের কর্মীরা গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে বিজেপির বক্তব্য, জনগণের ক্ষোভকে রাজনৈতিক হামলা বলে তুলে ধরা হচ্ছে। দুই পক্ষের এই পরস্পরবিরোধী দাবির ফলে ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয় এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। তবে ঘটনার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার অভিযোগ বা পাল্টা দাবির সত্যতা সম্পর্কে প্রশাসনের তরফে কোনও চূড়ান্ত মন্তব্য করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক সংঘাতের আবহে এ ধরনের ঘটনায় উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও নিরাপদ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিশ্চিত করা সব পক্ষেরই দায়িত্ব। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত চিত্র সামনে এলে তবেই এই বিতর্কের সুরাহা সম্ভব হবে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

