ওয়াশিংটন, ১৬ জুলাই: আমেরিকার ইউটা প্রদেশের এক ব্যস্ত কেনাকাটার কেন্দ্রে (শপিং মল) এক ভারতীয় মুসলিম যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে অন্তত ১৫ বার কোপ মারার অভিযোগ উঠল। পুলিশ সূত্রে খবর, সম্পূর্ণ ধর্মীয় বিদ্বেষ ও ঘৃণা থেকে চালিত হয়ে এই হামলা চালানো হয়েছে। আক্রান্ত যুবক বর্তমানে অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনায় ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত ৪৮ বছর বয়সী পিটার মাইকেল লারসেন নামে এক মার্কিন নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের জেরায় ধৃত স্পষ্ট জানিয়েছে, মুসলিমদের প্রতি চরম বিদ্বেষ থেকেই সে এই হামলা চালিয়েছে এবং তার মূল উদ্দেশ্য ছিল ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে ওই যুবককে হত্যা করা।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে ইউটার ‘ভ্যালি ফেয়ার মল’-এ। আক্রান্ত যুবক সৈয়দ সোহেল উদ্দিন ভারতীয় নাগরিক এবং ওই শপিং মলের একটি কিয়স্কে কর্মরত ছিলেন। আচমকা অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে তাঁর ধর্মীয় পরিচয় এবং জাতীয়তা জানতে চায়। তিনি নিজেকে মুসলিম বলে পরিচয় দেওয়া মাত্রই অভিযুক্ত ব্যক্তি পকেট থেকে ধারালো ছুরি বের করে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং একের পর এক কোপ মারতে থাকে।
রক্তাক্ত অবস্থায় সোহেল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে মলে উপস্থিত কয়েকজন সাধারণ ক্রেতা ও প্রত্যক্ষদর্শী সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে অভিযুক্তকে ধরে ফেলেন এবং পুলিশের হাতে তুলে দেন। তাঁদের সময়োচিত হস্তক্ষেপের কারণে বড় ধরনের বিপদের হাত থেকে রক্ষা পান কিয়স্কের অন্য কর্মীরা। রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে সোহেলকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাঁর একাধিক অস্ত্রোপচার চালানো হয়েছে। চিকিৎসক দল জানিয়েছেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাঁর অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।
পুলিশি তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে ধৃত পিটার মাইকেল লারসেনের ভয়াবহ মানসিকতার কথা। জেরার মুখে সে বিন্দুমাত্র অনুসূচনা প্রকাশ না করে জানায়, সে দেশে মুসলিমদের উপস্থিতি সহ্য করতে পারে না এবং অন্য মানুষদের উদ্দেশ্যে এক বার্তা দিতেই এই হত্যাকাণ্ড চালাতে চেয়েছিল। পুলিশের কাছে পেশ করা চার্জশিটে জানানো হয়েছে, লারসেনের বিরুদ্ধে হত্যার চেষ্টা এবং হেট ক্রাইম (ঘৃণাজনিত অপরাধ) বা ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক হিংসার ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
এই ন্যক্কারজনক ঘটনার পর আমেরিকার মুসলিম নাগরিক অধিকার রক্ষা সংস্থাগুলি এবং প্রবাসী ভারতীয় সম্প্রদায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমাগত বাড়তে থাকা ইসলামোফোবিয়া ও জাতিগত বিদ্বেষমূলক অপরাধ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সান ফ্রান্সিসকোস্থিত ভারতীয় দূতাবাস পুরো পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও আইনি সহায়তা প্রদান করছে।
আমেরিকায় এ ধরনের ধর্মীয় হিংসা ও চরমপন্থার বারংবার উত্থান অভিবাসী সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে ফের নতুন করে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।
বাংলাকাল-কে ফলো করুন
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
