গাজা উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলের হান ইউনুসে ফের প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। স্থানীয় সূত্র এবং ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, হান ইউনুসের পূর্বাঞ্চলে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর আশ্রয়স্থল লক্ষ্য করে চালানো হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। তবে হতাহতের সঠিক সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, হামলার সময় অনেক পরিবার অস্থায়ী তাঁবুতে অবস্থান করছিল। বিস্ফোরণের পর মুহূর্তেই চারদিকে ধোঁয়া, আগুন ও ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দা এবং উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত কয়েকটি ভিডিওতে আহত মানুষকে হাসপাতালে নেওয়া এবং উদ্ধারকর্মীদের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করতে দেখা যায়। তবে এসব ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
হান ইউনুস গত কয়েক মাস ধরেই গাজার সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। উত্তর গাজা থেকে নিরাপত্তার আশায় দক্ষিণাঞ্চলে আশ্রয় নেওয়া হাজার হাজার মানুষ বর্তমানে এই এলাকায় বসবাস করছেন। কিন্তু নিরাপদ আশ্রয়ের আশায় আসা বহু পরিবারও হামলার ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা আগেই সতর্ক করেছিল, গাজার অধিকাংশ এলাকাই এখন তীব্র মানবিক সংকটের মুখে এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত।
চলমান যুদ্ধের কারণে গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। হাসপাতালগুলোতে ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। চিকিৎসকদের অভিযোগ, আহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত অবকাঠামো নেই। অনেক ক্ষেত্রেই জরুরি অস্ত্রোপচার সীমিত সম্পদ দিয়েই পরিচালনা করতে হচ্ছে।
ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, তাদের সামরিক অভিযান হামাসের সামরিক অবকাঠামো ও যোদ্ধাদের লক্ষ্য করেই পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার অভিযোগ, এই অভিযানে বিপুল সংখ্যক বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় হামলার ফলে মানবিক বিপর্যয় আরও গভীর হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো সংঘাতের প্রতিটি ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে আসছে।
জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থা এবং বিভিন্ন দেশ অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা গাজায় প্রবেশের সুযোগ তৈরির আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছে। তবে কূটনৈতিক উদ্যোগ সত্ত্বেও সংঘাত এখনো অব্যাহত রয়েছে, ফলে প্রতিদিনই নতুন করে প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের খবর সামনে আসছে।
হান ইউনুসের সাম্প্রতিক ঘটনাও সেই দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংকটের আরেকটি বেদনাদায়ক অধ্যায় হিসেবে উঠে এসেছে। যুদ্ধের সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ—বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্করা। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে গাজায় মানবিক বিপর্যয় আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
