‘আমার সঙ্গী অর্ধেক ভারতীয়, এক ছেলের নাম রেখেছি চন্দ্রশেখর’: বর্ণবাদের অভিযোগ নস্যাৎ করে মুখ খুললেন ইলোন মাস্ক

‘আমার সঙ্গী অর্ধেক ভারতীয়, এক ছেলের নাম রেখেছি চন্দ্রশেখর’: বর্ণবাদের অভিযোগ নস্যাৎ করে মুখ খুললেন ইলোন মাস্ক

নয়াদিল্লি, ২৬ জুলাই: নিজের বিরুদ্ধে ওঠা বর্ণবিদ্বেষের সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে এক লহমায় ওড়ালেন টেক-মোগল ও বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলোন মাস্ক (Elon Musk)। নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও পারিবারিক সম্পর্কের উদাহরণ টেনে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁর বিরুদ্ধে বর্ণবাদের অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য ও উদ্দেশ্যে প্রণোদিত। একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাস্ক জানান, তাঁর বর্তমান জীবনসঙ্গিনী কানাডীয় প্রযুক্তি নির্বাহী শিভন জিলিস (Shivon Zilis) অর্ধ-ভারতীয় (Half-Indian)। শুধু তা-ই নয়, ভারতের নোবেলজয়ী বিখ্যাত পদার্থবিদ সুব্রহ্মণ্যন চন্দ্রশেখরের (Subrahmanyan Chandrasekhar) নামানুসারে তিনি তাঁদের এক সন্তানের নাম রেখেছেন বলেও খোলসা করেছেন টেসলা ও স্পেসএক্স-প্রধান।

সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইকোনমিস্ট’-কে দেওয়া একটি বিস্তৃত সাক্ষাৎকারে মাস্কের বিরুদ্ধে উগ্র ডানপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি প্রচার এবং পরিযায়ী ও বর্ণ সংক্রান্ত নানা বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগে ওঠা প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়। সেখানেই সুর চড়িয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন মাস্ক।

ইলোন মাস্ক জানান, তাঁর সঙ্গিনী নিউরালিংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা শিভন জিলিস ভারতীয় বংশোদ্ভূত। শিভনের মা পঞ্জাবি ভারতীয় এবং বাবা কানাডীয়। জিলিস ও মাস্কের চার সন্তান রয়েছে। মাস্ক বলেন, “আমার জীবনসঙ্গিনী অর্ধেক ভারতীয় এবং তাঁর গর্ভে আমার চারটি সন্তান রয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনের মধ্যনাম বিখ্যাত ভারতীয় পদার্থবিদের নামানুসারে রাখা হয়েছে। কাজেই আমি বলবো, আমি কোনোভাবেই বর্ণবাদী নই।”

মাস্কের পুত্র স্ট্রাইডার শেখর সিরিয়াসের মধ্যনাম ‘শেখর’ রাখা হয়েছে বিশিষ্ট ভারতীয়-আমেরিকান নোবেলজয়ী জ্যোতির্বিজ্ঞানী সুব্রহ্মণ্যন চন্দ্রশেখরের প্রতি সম্মান জানিয়ে, যিনি ১৯৮৩ সালে তারার গঠন ও বিবর্তন সংক্রান্ত গবেষণার জন্য পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন।

নিজের পারিবারিক জীবনের পাশাপাশি নিজের একাধিক বিশ্বখ্যাত সংস্থায় কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ নিয়েও সওয়াল করেন টেসলা-প্রধান। মাস্ক দাবি করেন, টেসলা, স্পেসএক্স এবং এক্স (সাবেক টুইটার)-এর শীর্ষ নির্বাহী পদগুলিতে বিভিন্ন বর্ণ ও সংস্কৃতির মানুষ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ফলে তাঁর প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের জাতিগত বা বর্ণগত বৈষম্যের স্থান নেই।

উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ অভিবাসন, ইউরোপের জনসংখ্যাগত পরিবর্তন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মাস্কের বেশ কিছু পোস্টকে কেন্দ্র করে অতীতে আন্তর্জাতিক স্তরে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। তাঁর সমালোচকরা প্রায়শই অভিযোগ তোলেন যে, মাস্কের নানা মন্তব্য ও বক্তব্য বর্ণবিদ্বেষমূলক নীতিকে পরোক্ষভাবে উস্কে দেয়। তবে এ দিনের সাক্ষাৎকারে সমস্ত বিতর্কের উত্তর দিতে গিয়ে নিজের পারিবারিক মূলধারার যোগসূত্র ও দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে রাখলেন এই প্রযুক্তি ধনকুবের।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply