কলকাতা, ১৬ জুলাই: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সৈনিক এবং বীরভূমের প্রাক্তন দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডল এখন বিদ্রোহী নেতাদের শিবিরে যোগ দিয়ে সরাসরি আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। অনুব্রতর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য নয়, বরং অভিষেকের কারণেই তাঁকে দলত্যাগ করতে হয়েছে।
বুধবার নিউ টাউনের এক অভিজাত হোটেলে আয়োজিত বিদ্রোহী তৃণমূল নেতাদের বৈঠকে উপস্থিত হয়ে অনুব্রত মণ্ডল বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য আমি দল ছাড়িনি, ছাড়তে হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কারণে। অভিষেকের জন্যই আমাকে কারাবাস করতে হয়েছে। আমি মনে করি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের পতনের মূল কারণ। আমি বারবার মমতাদিকে পরিস্থিতির কথা জানিয়েছিলাম, কিন্তু তিনি কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন।”
উল্লেখ্য, গত শনিবার রীতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠীতে যোগ দেন অনুব্রত মণ্ডল। তাঁকে ওই বিদ্রোহী শিবিরের বীরভূম জেলার সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অনুব্রতর মতো একজন প্রভাবশালী নেতার শিবির পরিবর্তন তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত্তিকে চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিল।
বিদ্রোহী শিবিরের বৈঠক সূত্রে খবর, এদিন রীতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি মদন মিত্রসহ দলের বেশ কয়েকজন প্রবীণ নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে রাজ্য থেকে জেলা স্তর পর্যন্ত সমান্তরাল সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছেন। অনুব্রতর যোগদানে সেই শক্তি যে বহুগুণ বৃদ্ধি পেল, তা বলাই বাহুল্য।
সাংবাদিকদের কাছে অনুব্রতর আরও অভিযোগ, দলের পুরনো কর্মীদের সম্মান ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং নতুন নেতৃত্বের প্রভাবের কারণে প্রবীণরা কোণঠাসা। তিনি বলেন, “অভিষেকের নেতৃত্বে দলের যে বর্তমান পরিস্থিতি, তা সকলেরই জানা। পুরনো কর্মীরা আর স্বস্তিতে নেই।”
যদিও তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে দলের অভ্যন্তরে এই ঘটনাকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব ও প্রবীণদের মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, তা এখন প্রকাশ্যে বিদ্রোহে রূপ নিয়েছে। রীতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিদ্রোহীরা ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন দলের নেতৃত্বের বৈধতা নিয়ে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনামলে তৃণমূল কংগ্রেসের সামনে এমন কঠিন অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ আগে আসেনি। দুর্নীতির অভিযোগ ও সাংগঠনিক কোন্দলের জেরে দল যেভাবে ভাঙনের মুখে পড়েছে, তাতে অনুব্রত মণ্ডলের এই বিদ্রোহ আগুনের ওপর ঘি ঢালার মতো কাজ করল। আগামী দিনে আরও কোন কোন হেভিওয়েট নেতা এই বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়। এই ভাঙন রুখতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে কোনো হস্তক্ষেপ করেন কি না, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
বাংলাকাল-কে ফলো করুন।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

