কোয়েটা, ১১ অগাস্ট:
পাকিস্তানের শাসন থেকে সম্পূর্ণ মুক্তির ডাক দিয়ে ১১ অগাস্ট দিনটিকে নিজস্ব জাতীয় স্বাধীনতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করলেন প্রখ্যাত বালুচ জাতীয়তাবাদী সমাজকর্মী মির ইয়ার বালোচ। স্বঘোষিত রিপাবলিক অফ বালোচিস্তানের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতার বার্তা বা মেসেজ অফ ইন্ডিপেন্ডেন্স প্রকাশ করে তিনি এই ঐতিহাসিক দাবি আন্তর্জাতিক মহলের সামনে তুলে ধরেছেন। এই ঘোষণাপত্রে মূলত ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের ঠিক আগেই কালাতের খানের দ্বারা বালোচিস্তানের স্বাধীনতার ঘোষণার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটটিকে নতুন করে স্মরণ করা হয়েছে। বালুচ জাতীয়তাবাদীদের এই পদক্ষেপ পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে তাদের দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এই আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে স্বঘোষিত স্বাধীন বালোচিস্তান রাষ্ট্র হিসেবে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক স্তরে আইনি এবং কূটনৈতিক স্বীকৃতির জোরালো দাবি জানিয়েছেন মির ইয়ার বালোচ। শুধুমাত্র স্বাধীনতার ঘোষণাতেই থেমে থাকেননি তিনি, ভবিষ্যতের একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত প্রাতিষ্ঠানিক পরিকাঠামো তৈরির কথাও এই বার্তায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। খুব দ্রুত নিজস্ব পাসপোর্ট, নিজস্ব মুদ্রা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বালোচিস্তানের নিজস্ব দূতাবাস স্থাপনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পাঁচ লক্ষ সেনাসদস্যের একটি বিশাল নিজস্ব সেনাবাহিনী গঠনের কথাও জানানো হয়েছে এই বিবৃতিতে। পাশাপাশি, বিশ্বের অন্যান্য দেশের বিনিয়োগকারী এবং সহায়তাকারী রাষ্ট্রগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে বালোচিস্তানের মাটিতে থাকা প্রায় পঞ্চাশ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের খনিজ এবং শক্তি সম্পদের কথাও এই ঘোষণাপত্রে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্বের দরবারে এই বিপুল সম্পদের সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সহায়তা গড়ে তোলার লক্ষ্যমাত্রাও স্থির করা হয়েছে।
এই স্বাধীনতার বার্তার পাশাপাশি পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুতর এবং চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনেছেন বালুচ নেতারা। বিবৃতিতে সরাসরি অভিযোগ করা হয়েছে যে, পাকিস্তান দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বেআইনিভাবে বালোচিস্তান দখল করে রেখেছে এবং সেখানে ধারাবাহিক সামরিক নিপীড়ন চালাচ্ছে। স্বাধীনতা দিবসের উদযাপন এবং সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত জমায়েতকে বাধা দিতে কালাত এবং কোয়েটার মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী কড়া সামরিক অবরোধ তৈরি করেছে বলে অভিযোগ। এছাড়া, বহির্বিশ্বের কাছ থেকে বালোচিস্তানের প্রকৃত পরিস্থিতি গোপন রাখতে এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীদের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে ওই অঞ্চলগুলোতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলেও জাতীয়তাবাদীরা দাবি করেছেন। এই দমনপীড়নের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মহলের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়েছে।
নিজেদের এই দীর্ঘ এবং রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা সংগ্রামে যারা ক্রমাগত সমর্থন জুগিয়েছেন, তাঁদের প্রতি এই আনুষ্ঠানিক বার্তার মাধ্যমে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে বালুচ জাতীয়তাবাদী নেতৃত্ব। বিশেষ করে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সাধারণ মানুষ এবং সমর্থকদের প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়েছে এই ঘোষণাপত্রে। পরিশেষে, পাকিস্তান রাষ্ট্রের এই দীর্ঘস্থায়ী সামরিক দমনপীড়ন এবং দখলদারির বিরুদ্ধে লড়াইকে চূড়ান্ত রূপ দিতে সমস্ত বালুচ রাজনৈতিক নেতা, সমাজকর্মী এবং সাধারণ মানুষকে সমস্ত ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন মির ইয়ার বালোচ। আন্তর্জাতিক মহলের কাছে তাঁদের এই বার্তা পৌঁছানোর পর দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

