নয়াদিল্লি, ১১ অগাস্ট:
ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষায় দুর্নীতির প্রতিবাদে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জ এবং তা নিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে এবার প্রকাশ্যেই সরব হলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। পড়ুয়াদের স্বার্থ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে কংগ্রেস এবং রাহুল গান্ধী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দেশজুড়ে প্রতিনিয়ত মিথ্যাচার করছেন বলে তিনি অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। শুধুমাত্র রাজনৈতিক ফায়দা লোটার উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেছেন। এর পাশাপাশি, সংসদের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত করা এবং যুবসমাজের প্রকৃত সমস্যাগুলো নিয়ে কংগ্রেসের এই ধরনের নির্বাচিত ক্ষোভ বা সিলেক্টিভ আউটরেজ প্রদর্শন নিয়েও তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, কংগ্রেসের এই ধরনের দ্বিচারিতা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক।
এই রাজনৈতিক তরজার মূল সূত্রপাত হয়েছে মূলত ঝাড়খণ্ডের সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে। বিগত কয়েকদিন ধরে ঝাড়খণ্ডে বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় ব্যাপক দুর্নীতি এবং অনিয়মের অভিযোগ তুলে রাস্তায় নামেন হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী এবং সাধারণ পড়ুয়ারা। রাজ্য বিধানসভা ঘেরাও করার উদ্দেশ্যে তাঁদের একটি বিশাল এবং শান্তিপূর্ণ মিছিল এগিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার যুক্তি দেখিয়ে পুলিশ আন্দোলনকারী তরুণ-তরুণীদের উপর নির্বিচারে জলকামান, কাঁদানে গ্যাস এবং বেধড়ক লাঠিচার্জ করে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই অপ্রত্যাশিত এবং দমনমূলক ঘটনার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশের এই অমানবিক বলপ্রয়োগের কড়া ভাষায় নিন্দা করেছিলেন। তাঁর সেই মন্তব্যের পরপরই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান কংগ্রেসের বিরুদ্ধে পাল্টা এবং তীক্ষ্ণ আক্রমণ শানান।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান কংগ্রেসের এই অবস্থানকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সুবিধাবাদী এবং চরম দ্বিচারিতা বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি দেশবাসীকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, ঝাড়খণ্ডে বর্তমানে যে হেমন্ত সোরেনের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ক্ষমতায় রয়েছে, কংগ্রেস সেই শাসক জোটের অন্যতম প্রধান এবং গুরুত্বপূর্ণ শরিক দল। নিজেদের সমর্থনপুষ্ট এবং শাসিত রাজ্যে যখন চাকরির দাবিতে পথে নামা নিরীহ পড়ুয়াদের উপর এমন নির্মম পুলিশি অত্যাচার চালানো হচ্ছে, তখন কংগ্রেস নেতৃত্ব সেই রাজ্য সরকারের পুলিশি ব্যবস্থার দায় সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। রাজ্যের প্রশাসন বা মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা না করে তারা অত্যন্ত সুকৌশলে বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। ধর্মেন্দ্র প্রধান কংগ্রেসের এই নীতিকে সিলেক্টিভ ডেমোক্রেসি বা সুবিধাবাদী গণতন্ত্র বলে কড়া ভাষায় কটাক্ষ করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, দেশের অন্য কোনো বিরোধী শাসিত রাজ্যে ঠিক এই ধরনের ঘটনা ঘটলে কংগ্রেস নেতৃত্ব সংসদে রীতিমতো তুলকালাম পরিস্থিতি তৈরি করে, কিন্তু নিজেদের জোট সরকারের রাজ্যে এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটলেও তারা অত্যন্ত সন্তর্পণে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ বজায় রাখছে।
শিক্ষামন্ত্রীর মতে, দেশের পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ বা কর্মসংস্থানের প্রতি কংগ্রেস দলের কোনো প্রকৃত উদ্বেগ বা সহানুভূতি নেই। বরং তারা যুবসমাজের এই অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিকে নিজেদের সংকীর্ণ রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। সংসদে বারবার এই ধরনের বিষয়কে কেন্দ্র করে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে সভার কাজ ভেস্তে দেওয়া এবং দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্রমাগত মিথ্যা প্রচার চালানোই তাদের প্রধান রাজনৈতিক কর্মসূচি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ঝাড়খণ্ডের এই নিয়োগ দুর্নীতি এবং তৎপরবর্তী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে শাসক দল বিজেপি এবং প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের মধ্যে এই রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ আগামী দিনে আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে দুই দলের এই পারস্পরিক আক্রমণ এখন জাতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে, যা আগামী নির্বাচনগুলোতেও ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

