ইসরায়েলে ভারতীয় কেয়ারগিভারকে কুপিয়ে খুন, বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে সরব শ্রমিকরা

ইসরায়েলে ভারতীয় কেয়ারগিভারকে কুপিয়ে খুন, বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে সরব শ্রমিকরা

তেল আবিব, ২২ আগস্ট:

ইসরায়েলে এক ভারতীয় কেয়ারগিভারকে ছুরিকাঘাতে খুনের ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে সরব হলেন সেখানে কর্মরত ভারতীয় শ্রমিকরা। গত মাসে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ব্যক্তিগত বাসাবাড়িতে কর্মরত বিদেশি শ্রমিকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, নিহত ভারতীয় গৃহকর্মীর নাম রাজীব আচার্য। গত ২৩ জুলাই তিনি যে প্রবীণ দম্পতির দেখাশোনার কাজ করতেন, তাঁদেরই নাতি আভিয়র জাকেন তাঁকে নৃশংসভাবে আক্রমণ করে কুপিয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ ওঠে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত জাকেনের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত খুনের অভিযোগে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র গঠন করেছে। মৃত্যুর পুরো পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এখনও বিস্তারিত তদন্ত প্রক্রিয়া জারি রয়েছে।

এই হত্যাকাণ্ডের জেরে ইসরায়েলে থাকা ভারতীয় শ্রমিক সমাজ সেদেশের কর্তৃপক্ষের কাছে পুরো মামলাটির কঠোর বিচার প্রক্রিয়া পরিচালনা, নিহত রাজীব আচার্যের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ভারতীয় শ্রমিকদের বিরুদ্ধে যে কোনো ধরনের সহিংসতা ও নির্যাতন প্রতিরোধে কঠোর সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। যে সমস্ত কেয়ারগিভার নিয়োগকর্তার বাড়িতে থেকেই দায়িত্ব পালন করেন, তারা ব্যক্তিগত পরিমণ্ডলে কতটা ঝুঁকির মধ্যে থাকেন, এই ঘটনায় সেই প্রশ্নটি প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে।

তেল আবিবে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, তারা পুরো বিষয়টি নিয়ে ইসরায়েলি প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রেখেছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ভারতীয় দূতাবাসকে জানিয়েছে যে প্রধান সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ঘটনার মূল কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সম্প্রতি ইসরায়েলে ভারতীয় শ্রমিকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার সময়েই এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটল। ২০২৩ সালে ভারত ও ইসরায়েলের মধ্যে ৪২ হাজারেরও বেশি ভারতীয় কর্মী পাঠানোর জন্য একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার মধ্যে নির্মাণ কাজের জন্য ৩৪ হাজার এবং প্রবীণদের সেবায় প্রায় ৮ হাজার পদ অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর বিপুল সংখ্যক ফিলিস্তিনি শ্রমিকের কাজের অনুমতিপত্র বাতিল করে দেয় ইসরায়েল। এরপর থেকেই বিদেশি শ্রমিকের চাহিদা তীব্রভাবে বেড়ে যায় এবং ইসরায়েলের বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা ভারত থেকে হাজার হাজার শ্রমিক নিয়োগের উদ্যোগ নেয়।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply