বন্যাবিধ্বস্ত অসমে মন্দির ও মসজিদ সংস্কার করে সম্প্রীতির বার্তা দিলেন সমাজকর্মী মুন আলি গড়িয়া

বন্যাবিধ্বস্ত অসমে মন্দির ও মসজিদ সংস্কার করে সম্প্রীতির বার্তা দিলেন সমাজকর্মী মুন আলি গড়িয়া

গুয়াহাটি, ২৩ আগস্ট:

ভয়াবহ বন্যার তাণ্ডবে বিপর্যস্ত অসমের একাধিক জেলায় ধর্মীয় সম্প্রীতি ও মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন মুন আলি গড়িয়া নামের এক সমাজকর্মী। বন্যার জল নেমে যাওয়ার পর কাদামাটিতে ঢেকে যাওয়া হিন্দু মন্দির, নামঘর এবং মুসলিমদের মসজিদ নিজ উদ্যোগে পরিষ্কার ও সংস্কার করার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন তিনি। দুর্যোগের মুহূর্তে জাতি-ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে ক্ষতিগ্রস্ত ধর্মীয় উপাসনালয়গুলি পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করে তোলার এই মানবিক উদ্যোগ স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

অসমের গড়িয়া-মরিয়া-দেশী জাতীয় পরিষদের সঙ্গে যুক্ত মুন আলি গড়িয়া সম্প্রতি শিবসাগর, চড়াইদেও এবং জোরহাট জেলার বন্যাকবলিত এলাকাগুলিতে ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজ পরিচালনা করেন। সম্প্রতি অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ব্রহ্মপুত্র ও তার উপনদীগুলির জলস্তর বৃদ্ধি পেয়ে এই জেলাগুলির বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। বন্যার জল উপাসনালয়গুলিতে ঢুকে পড়ায় সংরক্ষিত ধর্মীয় গ্রন্থ ও প্রার্থনার সামগ্রী ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও নষ্ট হয়ে যায়।

বন্যার জল নামতে শুরু করতেই মুন আলি স্থানীয় যুবকদের সঙ্গে নিয়ে উপাসনালয়গুলির সংস্কারে নামেন। তিনি এবং তাঁর দল মন্দির, নামঘর ও মসজিদগুলির মেঝে ও দেওয়াল থেকে কাদা-আবর্জনা পরিষ্কার করেন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত ধর্মীয় স্থানগুলির পবিত্রতা ফিরিয়ে আনতে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে উদ্যোগী হন।

শুধুমাত্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মধ্যেই নিজের কাজ সীমাবদ্ধ রাখেননি তিনি। ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির ও নামঘরগুলির জন্য তিনি নতুন ভগবদ গীতা এবং অন্যান্য সনাতন ধর্মীয় গ্রন্থ প্রদান করেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদগুলির জন্য পবিত্র কুরআন শরিফ ও নতুন জায়নামাজ বা প্রার্থনার মাদুর বিতরণ করেন। অসমের মতো বন্যাপ্রবণ অঞ্চলে সংকটের মুহূর্তে এই ধরনের উদ্যোগ সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও একতার বার্তা জোরালো করেছে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply