দোহা, ২৩ আগস্ট:
ইরান ও আমেরিকা-ইজরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানি থেকে রাজস্বে তীব্র ঘাটতি দেখা দেওয়ায় ব্যাপক কৃচ্ছ্রসাধন নীতি গ্রহণ করেছে কাতার। পরিস্থিতি সামাল দিতে সে দেশের সরকার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের বাজেটে প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কাটছাঁট এবং বিদেশি সহায়তায় ৮৫ শতাংশ হ্রাস করার মতো বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে রাস লাফানে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কাতারের এলএনজি রপ্তানি ক্ষমতার প্রায় ১৭ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংশ্লিষ্ট ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এবং অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থার কারণে নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে দেশটি প্রতি সপ্তাহে দেড় থেকে দুই বিলিয়ন ডলার মূল্যের জ্বালানি ক্ষতির মুখে পড়ছে।
এই পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) জানিয়েছে, ২০২৬ সালে কাতারের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (জিডিপি) প্রায় ৮.৬ শতাংশ সঙ্কুচিত হতে পারে, যা উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ পতন। উদ্ভূত অর্থনৈতিক সংকট সামাল দিতে কাতার সরকার তাদের ৫০০ বিলিয়ন ডলারের সার্বভৌম সম্পদ তহবিল থেকে অর্থ ব্যবহারের পাশাপাশি চলমান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে আরও কঠোর ব্যয় সঙ্কোচনের পথে হাঁটার কথা বিবেচনা করছে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
