নয়াদিল্লি, ১০ এপ্রিল:
ভারতে চিতা পুনর্বাসন প্রকল্প বা ‘প্রজেক্ট চিতা’ ক্রমেই গভীর সংকটের মুখে পড়ছে বলে উঠে এসেছে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। গত তিন বছরে আফ্রিকা থেকে আনা ২০টি চিতার ক্ষেত্রে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা এবং উপযুক্ত বাসস্থানের অভাব নিয়ে বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞ, পরিবেশবিদ ও আধিকারিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির চেয়ে ভয় ও রাজনৈতিক চমকের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণেই প্রকল্পটি বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আফ্রিকা থেকে আনা চিতা এবং তাদের শাবকরা বারবার নির্ধারিত সীমানার বাইরে চলে যাচ্ছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে জন্মের মাত্র দুই দিনের মাথায় দুটি শাবকের মৃত্যুর পর মোট মৃত চিতার সংখ্যা দাঁড়ায় ১৫-তে। ভারতে পর্যাপ্ত জায়গা এবং শিকারযোগ্য প্রাণীর অভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করেছেন। অথচ প্রকল্পের শুরু থেকে যুক্ত থাকা এবং একে সমর্থন জানানো সরকারি ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের অনেকেই এখন কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। এই প্রকল্পের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকা তিনজন বিদেশি বিশেষজ্ঞকেও কার্যত দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবিদদের দাবি, মধ্যপ্রদেশের কুনো জাতীয় উদ্যানের পরিবেশ চিতার স্থায়ী আবাসস্থল হিসেবে কতটা উপযুক্ত, তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন রয়েছে। বিজ্ঞানসম্মত পদক্ষেপের বদলে লোকদেখানো চমক হিসেবে প্রকল্পটিকে পরিচালনা করা হচ্ছে, যা চিতা এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থানীয় মানুষ—উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। কুনোর পাশাপাশি মধ্যপ্রদেশের গান্ধীসাগর অভয়ারণ্য ও গুজরাটের বান্নি ঘাসভূমিতে চিতাদের স্থানান্তর ও বন্দিদশায় প্রজননের যে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি প্রকৃত অর্থে কোনো দীর্ঘমেয়াদি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ নয়, বরং রাজনৈতিক চমক বা প্রদর্শনীতে রূপ নিয়েছে। যথাযথ বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন ছাড়া নেওয়া এই সিদ্ধান্তগুলো চিতাদের মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ানোর পাশাপাশি সার্বিক পরিবেশ ব্যবস্থাপনাকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

