নয়াদিল্লি, ২২ আগস্ট:
সরকারি চাকরি ও শিক্ষা ক্ষেত্রে জাতির পরিবর্তে অর্থনৈতিক অবস্থার ভিত্তিতে সংরক্ষণের দাবিতে জাতীয় রাজধানী দিল্লির যন্তরমন্তরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করলেন কয়েক হাজার মানুষ। এই সমাবেশকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয় এবং সরকারি বিধিনিষেধ লঙ্ঘনের অভিযোগে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশের পক্ষ থেকে রামলীলা ময়দানে এই কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হলেও আন্দোলনকারীরা সেখানে না গিয়ে যন্তরমন্তরে জড়ো হন। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দিল্লি পুলিশ এবং র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (আরএএফ) সদস্যদের হস্তক্ষেপ করতে হয়। যন্তরমন্তর চত্বরে জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় সেই নিয়ম অমান্য করার কারণে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়।
এই বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল ‘সংরক্ষণ হটাও আন্দোলন’ নামক একটি মঞ্চ। আন্দোলনকারীদের হাতে ছিল বিভিন্ন ধরনের পোস্টার ও গেরুয়া পতাকা এবং তাঁরা বর্তমান সংরক্ষণ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন। তাঁদের মূল দাবি ছিল, সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও সহায়তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির জাতপাতের পরিচয়ের বদলে তাঁর পরিবারের আর্থিক অবস্থাকে মানদণ্ড করা উচিত।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অখিল ভারতীয় ক্ষত্রিয় মহাসভার সঙ্গে যুক্ত এক বিক্ষোভকারী জানান যে, জাতপাত নির্বিশেষে সমস্ত দরিদ্র মানুষের জন্য সরকারি সহায়তা উন্মুক্ত থাকা উচিত। তিনি শিক্ষা, কোচিং এবং আনুষঙ্গিক খরচের ক্ষেত্রে সরকারের আর্থিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের একাংশ দাবি জানান যে, তফশিলি জাতি (এসসি), তফশিলি উপজাতি (এসটি) এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির (ওবিসি) সংরক্ষণের ভেতরের অগ্রাধিকার নির্ধারণেও আয়ের ভিত্তিতে একটি ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন।
অন্য এক আন্দোলনকারী স্পষ্ট করেন যে, তাঁদের লক্ষ্য পিছিয়ে পড়া ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষদের সহায়তা বন্ধ করা নয়। বরং তাঁরা চান বৃত্তি, ফি মকুব এবং কোচিংয়ের মতো সুবিধাগুলো যেন প্রকৃত অভাবী মানুষের কাছে পৌঁছায় তা নিশ্চিত করা হোক।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুর দিকে সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্র সরকার জানিয়েছিল যে তারা বিদ্যমান এসসি, এসটি এবং ওবিসি সংরক্ষণ কাঠামোর মধ্যে আয়ভিত্তিক উপ-কোটা চালুর বিরোধী। কেন্দ্রের যুক্তি ছিল, জাতিভিত্তিক সংরক্ষণ মূলত ঐতিহাসিক এবং সামাজিক অনগ্রসরতা দূর করার জন্য তৈরি করা হয়েছে, যা শুধুমাত্র অর্থনৈতিক সংকটের ওপর নির্ভরশীল নয়। সেই অবস্থানের পরই রাজধানীতে এই ব্যাপক বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হলো।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

