বিদেশি প্রভাব রুখতে কড়া পদক্ষেপ, শত্রুভাবাপন্ন সংবাদমাধ্যম ও বিদেশি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগে কড়া শাস্তির প্রস্তাব পাশ ইরানি পার্লামেন্টে

বিদেশি প্রভাব রুখতে কড়া পদক্ষেপ, শত্রুভাবাপন্ন সংবাদমাধ্যম ও বিদেশি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগে কড়া শাস্তির প্রস্তাব পাশ ইরানি পার্লামেন্টে

তেহরান, ১৬ আগস্ট:

বিদেশি গুপ্তচর সংস্থার প্রভাব ও বহির্বিশ্বের হস্তক্ষেপ রুখতে এক অত্যন্ত কঠোর আইনি পদক্ষেপের পথে হাঁটল ইরান। ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের স্বার্থবিরোধী বলে বিবেচিত বা তথাকথিত শত্রুভাবাপন্ন বিদেশি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকার দেওয়া বা কোনো ধরনের যোগাযোগ স্থাপনকে এবার ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিধান এনে একটি নতুন বিলের সাধারণ নীতিমালার অনুমোদন দিয়েছে সে দেশের পার্লামেন্ট। প্রস্তাবিত এই আইনের আওতায় আমেরিকা এবং ইজরায়েল বা এই দুই দেশ থেকে অর্থসাহায্য পাওয়া যে কোনো সংবাদমাধ্যমকে সরাসরি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ইরানি সংবাদপত্র শারঘ এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার ইরানের আইনসভায় এই প্রস্তাবিত বিলটির সাধারণ কাঠামোর ওপর প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ইরানের পার্লামেন্টের বিচার ও আইন বিষয়ক কমিশনের অন্যতম সদস্য ওসমান সালারি স্থানীয় মিজান সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন যে, বিদেশি গোয়েন্দা প্রভাব রুখতেই এই আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বিলটির সামগ্রিক খসড়া বা প্রতিটি ধারা নিয়ে পার্লামেন্টে বিস্তারিত বিতর্ক ও চুলচেরা বিশ্লেষণ এখনও বাকি রয়েছে। ফলে চূড়ান্ত রূপ না পাওয়া পর্যন্ত এর সমস্ত খুঁটিনাটি চূড়ান্ত বলে গণ্য করা যাবে না।

প্রস্তাবিত এই কঠোর বিলের আওতায় শত্রুভাবাপন্ন বা বিরোধী হিসেবে চিহ্নিত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেওয়া কিংবা তাদের আয়োজিত কোনো প্রকাশ্য আলোচনায় অংশগ্রহণ করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হবে। এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে অপরাধীর বিরুদ্ধে ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। অন্যান্য সাধারণ বিদেশি সংবাদমাধ্যমের ক্ষেত্রেও কড়া নিয়ম চালু করার কথা বলা হয়েছে। সেক্ষেত্রে বিদেশি গণমাধ্যমকে কোনো সাক্ষাৎকার দিতে গেলে দেশের গোয়েন্দা মন্ত্রককে আগে থেকে লিখিতভাবে অবহিত করা বাধ্যতামূলক করা হবে।

এর পাশাপাশি বিদেশি দূতাবাস, আন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যালয় কিংবা অনাবাসী বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ জারি করার প্রস্তাব রয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের পূর্বানুমতি ও লিখিত ছাড়পত্র ছাড়া এমন কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করলে বড় অঙ্কের জরিমানা ছাড়াও একাধিক সামাজিক অধিকার হরণের মতো কড়া শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। এছাড়া বিদেশি শক্তির নির্দেশ বা তত্ত্বাবধানে সংঘটিত যে কোনো আর্থিক অপরাধের ক্ষেত্রে শাস্তির মাত্রা আরও বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে প্রস্তাবিত খসড়ায়।

গোয়েন্দা মন্ত্রকের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া কোনো তথ্য বিদেশিদের সরবরাহ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি অনুমোদিত তালিকা ছাড়া বিদেশি শিক্ষা বা বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গবেষণামূলক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। এমনকি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার প্রভাবে এমন কোনো নীতি বা আইনি প্রস্তাব উত্থাপন করা হলে, যা ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করতে পারে, তার জন্য সর্বোচ্চ ৩০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই সমস্ত গুরুতর মামলার বিচার হবে ইরানের বিপ্লবী আদালতে। আইনটি চূড়ান্ত হওয়ার আগে পার্লামেন্টের ধারাভিত্তিক অনুমোদন এবং দেশটির গার্ডিয়ান কাউন্সিলের চূড়ান্ত সম্মতির প্রয়োজন হবে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply