সীতাপুর, ১৭ আগস্ট:
উত্তর প্রদেশের সীতাপুর জেলায় রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর একটি কবরস্থানের নিকটবর্তী গাছের ডাল থেকে ১৬ বছর বয়সী এক মুসলিম কিশোরীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই নৃশংস ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, গ্রামেরই তিন যুবক ওই নাবালিকাকে প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করে এবং গণধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে দিয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্তে নেমে অভিযুক্ত তিন যুবককে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। পাশাপাশি কর্তব্যে চরম গাফিলতির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে তাত্ক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত ১১ আগস্ট বিকেলে সীতাপুর জেলার কোতোয়ালি দেহাত থানা এলাকার সহরই গ্রামের বাসিন্দা ওই কিশোরী বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। পরিবারের সদস্যরা নিখোঁজের পরপরই সেদিন সন্ধ্যায় এবং পরদিন স্থানীয় থানায় ছুটে যান। কিন্তু পরিবারের অভিযোগ, বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও পুলিশ নিখোঁজ ডায়েরি বা এফআইআর গ্রহণ করতে অস্বীকার করে। এর তিন দিন পর, ১৪ আগস্ট গ্রামের নিকটবর্তী একটি মাজার সংলগ্ন কবরস্থানের গাছে কিশোরীর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে এবং চিকিৎসকদের একটি বিশেষ প্যানেল দিয়ে ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অলোক সিংহ জানিয়েছেন, মরদেহটি অন্তত তিন দিনের পুরনো এবং প্রাথমিক রিপোর্টে গলায় ফাঁস লেগে মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
নিহতের পরিবারের দায়ের করা লিখিত অভিযোগে একই গ্রামের বাসিন্দা মহম্মদ ইলিয়াস, রহিম এবং সলমন ওরফে আরমান নামের তিন যুবকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, অভিযুক্তরা মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে ওই নাবালিকাকে ভুলিয়ে নিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে তাকে অপহরণ ও ধর্ষণ করে খুন করে। কোতোয়ালি সদর সার্কেল অফিসার নেহা ত্রিপাঠী জানিয়েছেন, নাম থাকা তিন অভিযুক্তকেই পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ কল ডিটেইল রেকর্ড, ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত ফরেনসিক তথ্য ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে। তদন্তে পাওয়া প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে।
এদিকে এই ঘটনায় পুলিশের চূড়ান্ত নিষ্ক্রিয়তা ও উদাসীনতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ১১ আগস্ট ঘটনা জানানো সত্ত্বেও ১৪ আগস্ট পর্যন্ত কোনো এফআইআর দায়ের না করায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ভীম আর্মি প্রধান তথা সাংসদ চন্দ্রশেখর আজাদ। তাঁর অভিযোগ, ভীম আর্মির পক্ষ থেকে পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়ে প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টির পরই কেবল পুলিশ এফআইআর নিতে বাধ্য হয় এবং সেই সন্ধ্যায়ই নাবালিকার দেহ মেলে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে সীতাপুরের পুলিশ সুপার অঙ্কুর আগরওয়াল কর্তব্য অবহেলার অভিযোগে কাচনার ফাঁড়ির ইনচার্জ সাব-ইন্সপেক্টর তেজ বাহাদুর সিংহকে তাত্ক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করেছেন। এছাড়া কোতোয়ালি দেহাত থানার স্টেশন হাউজ অফিসার অমর সিংহের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বাধীনতা দিবসের দিন সমাজমাধ্যমে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভীম আর্মি প্রধান লেখেন, এটি কেবল ১৬ বছরের একটি মেয়ের দেহ নয়, গাছের ডালে যেন উত্তর প্রদেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা ঝুলছে। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ উচ্চপর্যায়ের তদন্ত, দোষী পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং নির্যাতিতার পরিবারের জন্য দ্রুত বিচার দাবি করেন। শনিবার কড়া পুলিশি পাহারায় ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে কিশোরীর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। বর্তমানে সীতাপুর পুলিশ একই সঙ্গে কিশোরীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং পুলিশের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের গাফিলতি—এই দুই বিষয়ের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালাচ্ছে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

