“গালিগালাজ কোনো কিছুর সমাধান নয়”, যন্তর মন্তরের ওই আন্দোলনকারী জন্য কি বার্তা দিলেন মোদী ?

“গালিগালাজ কোনো কিছুর সমাধান নয়”, যন্তর মন্তরের ওই আন্দোলনকারী জন্য কি বার্তা দিলেন মোদী ?

নয়াদিল্লি, ১ আগস্ট: দিল্লি জান্তর মন্তরে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে চলা ছাত্র আন্দোলনে সম্প্রতি এক ছাত্রীর মুখে তাঁর ও তাঁর প্রয়াত মায়ের বিরুদ্ধে কটু ভাষার ব্যবহারে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল দেশজুড়ে। সেই ঘটনা ও সাম্প্রতিক সামাজিক উত্তেজনার আবহে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এক বার্তা দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ৩১ জুলাই, ২০২৬-এ দেওয়া এক বিশেষ ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গালিগালাজ বা গালাগালি কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারে না।” বিভ্রান্ত বা পথভ্রষ্ট তরুণ প্রজন্মকে শাস্তির চাবুক না মেরে সঠিক দিশা দেখানোর জন্য দেশবাসীর প্রতি এক স্পর্শকাতর আহ্বান জানান তিনি। একই সাথে দেশের সার্বিক প্রগতির স্বার্থে জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “আসুন আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করি। আসুন আমরা ভারতের জন্য কাজ করি।”

সম্প্রতি দিল্লিতে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র পরিচালিত বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে রাজপথে নেমেছিল হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজ। সেই ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠা জান্তর মন্তরে বিক্ষোভ প্রদর্শন চলাকালীন নোইডার ২৫ বছর বয়সী এক তরুণী সহ একাধিক আন্দোলনকারী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং তাঁর প্রয়াত মাতাজীকে লক্ষ্য করে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অশালীন শব্দ প্রয়োগ করেন। এই সংক্রান্ত ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অবমাননার অভিযোগ তুলে পুলিশের কাছে একাধিক অভিযোগ ও মামলাও দায়ের করা হয়।

তবে আইনি পদক্ষেপ বা গণ-আক্রোশের উল্টো পথে হেঁটে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও সংবেদনশীল এক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। নিজের ভিডিও বার্তায় সমাজের ভেতরে তৈরি হওয়া তীব্র রাগ ও সাংস্কৃতিক ধাক্কার বিষয়টিকে স্বীকার করে নিয়েও তিনি আইনি হয়রানি বা সামাজিক লজ্জা দেওয়ার (Public Shaming) কঠোর বিরোধিতা করেছেন।

তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি একটি অত্যন্ত পরিচিত ও বাস্তবসম্মত রূপক বা মেটাফর ব্যবহার করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “খাবার খাওয়ার সময় যদি দুর্ঘটনাবশত জিভে নিজের দাঁতের কামড় লেগে যায়, তবে কেউ কিন্তু নিজের দাঁত ভেঙে ফেলে না।” একইভাবে, তরুণ সমাজ যদি রাগের মাথায় বা কারো প্ররোচনায় পা দিয়ে কোনো ভুল মন্তব্য করে ফেলে, তবে তাদের জীবন ধ্বংস করে দেওয়ার বদলে বড়দের উচিত ক্ষমাশীল হওয়া এবং তাদের সঠিক পথ দেখানো।

প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, যুবসমাজই হলো আধুনিক ভারতের মেরুদণ্ড। সাময়িক ক্ষোভ বা বিভ্রান্তির বশে তাদের অপরাধী বানিয়ে দিলে দেশের ভবিষ্যৎই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাদের কঠোর শাস্তির মুখে ঠেলে না দিয়ে কীভাবে সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনা যায়, সেদিকেই মনোনিবেশ করা উচিত। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ গড়ার কাজটি কোনো একক ব্যক্তির নয়, বরং ১৪০ কোটি ভারতবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। তিনি তরুণদের আহ্বান জানান যে, সাময়িক ক্ষোভ ভুলে তাঁরা যেন তাঁদের শক্তি ও প্রতিভাকে ‘ভারত গঠন’-এর কাজে নিয়োজিত করেন।

মোদের এই বার্তা কেবল একটি রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রতিক্রিয়া নয়, বরং দেশের তরুণ সমাজের প্রতি এক গভীর মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ। যে সময়ে মেরুকরণ ও আক্রোশের রাজনীতি বারবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, সে সময়ে ক্ষোভের বিপরীতে দাঁড়িয়ে ক্ষমা, ধৈর্য এবং জাতীয় ঐক্যের বার্তা রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে অত্যন্ত দূরদর্শী। সংঘাতের পথ ছেড়ে পারস্পরিক সহানুভূতি এবং দেশের জন্য একসঙ্গে কাজ করার এই আহ্বান দেশের যুবসমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক ভাবনার সঞ্চার করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply