গুয়াহাটি, ৬ আগস্ট:উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য আসামে সরকারি প্রচার ও বিজ্ঞাপন খাতে বিগত কয়েক বছরে বিপুল পরিমাণ বাজেট ব্যয় করা হয়েছে। ২০২১ সালের জুন মাস থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত সময়কালে রাজ্যের বিভিন্ন ধরনের সংবাদমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন বাবদ আসাম সরকারের রাজকোষ থেকে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এর পাশাপাশি পথসভা, হোর্ডিং ও ব্যানার বাবদ আলাদাভাবে ব্যয় হয়েছে আরও প্রায় ৫২ কোটি টাকা। অর্থাৎ এই নির্দিষ্ট সময়সীমায় সব মিলিয়ে সাড়ে চারশো কোটি টাকারও বেশি অর্থ প্রচারের পেছনে ব্যবহার করেছে হিমন্ত বিশ্বশর্মার নেতৃত্বাধীন আসাম সরকার। বিধানসভার অধিবেশন চলাকালীন এক কংগ্রেস বিধায়কের লিখিত প্রশ্নের জবাবে এই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পেশ করেছেন রাজ্যের তথ্য ও জনসংযোগ মন্ত্রী পীযূষ হাজরিকা।
বিধানসভায় উত্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১ জুন থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রিন্ট মিডিয়ায় অর্থাৎ সংবাদপত্র ও সাময়িকীতে সরকারি বিজ্ঞাপনের সিংহভাগ অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। এই সময়কালে শুধুমাত্র ছাপানো সংবাদমাধ্যমে প্রদর্শনী ও শ্রেণীবদ্ধ বিজ্ঞাপনের পেছনে সরকারের মোট খরচ হয়েছে ৩৩০.৭৪ কোটি টাকা, যা সমস্ত মাধ্যমে ব্যয় করা মোট অর্থের সর্বাপেক্ষা বড় অংশ। প্রিন্ট মিডিয়ার পর ইলেকট্রনিক মিডিয়া অর্থাৎ টিভি চ্যানেলগুলোতে বিজ্ঞাপনের জন্য ব্যয় করা হয়েছে ৬৯.৩৯ কোটি টাকা। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের প্রসার বিবেচনা করে সেখানেও সরকারি প্রচারের বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন প্রচারমূলক কাজে ৩৭.৮ কোটি টাকা এবং অন্যান্য ডিজিটাল মিডিয়ায় ১.৫৭ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের পাশাপাশি বাস্তব দৃশ্যমান প্রচার ব্যবস্থার অঙ্গ হিসেবে ব্যানার, হোর্ডিং ও ফ্লেক্স টাঙানোর পেছনে আলাদা করে ৫২ কোটি টাকা রাজকোষ থেকে ব্যয় করা হয়েছে। তথ্য ও জনসংযোগ মন্ত্রী পীযূষ হাজরিকা জানান, ২০২১-২২ অর্থবর্ষে হোর্ডিং বাবদ ব্যয় হয়েছিল ১২.৮২ কোটি টাকা, ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে ৬.৬৮ কোটি টাকা, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে ৭.৮৬ কোটি টাকা, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ৩.৯৯ কোটি টাকা এবং ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচির বিজ্ঞাপনের পেছনে ২৪.৬৯ কোটি টাকা ব্যয় হয়। বিধানসভায় বিরোধী দল কংগ্রেসের বিধায়ক প্রদীপ সরকারের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, রাজ্য সরকারের গৃহীত বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী প্রকল্প, উন্নয়নমূলক উদ্যোগ এবং প্রশাসনিক নীতি সম্পর্কে আসামের সর্বস্তরের জনগণকে অবহিত ও সচেতন করতেই এই পরিমাণ অর্থ নিয়মতান্ত্রিকভাবে খরচ করা হয়েছে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
