অসমের এক মুসলিম দৈনিক মজুর ১৯৫১ সালের ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেনস (NRC), একাধিক ভোটার তালিকা, স্কুলের শংসাপত্র, প্যান কার্ড ও ভোটার পরিচয়পত্র-সহ মোট ১৫টি সরকারি নথি আদালতে জমা দিয়েও ভারতীয় নাগরিক হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে রায় দিয়েছে গৌহাটি হাইকোর্ট। আদালত বিদেশি ট্রাইব্যুনালের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত বহাল রেখে তাঁকে ‘বিদেশি’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।
জানা গিয়েছে, আবেদনকারী আমিনুল হক অসমের এক দৈনিক মজুর। ২০১৯ সালে বিদেশি ট্রাইব্যুনাল তাঁকে বিদেশি ঘোষণা করার পর তিনি গৌহাটি হাইকোর্টে সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানান। নিজের দাবি প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি ১৯৫১ সালের NRC-তে তাঁর পরিবারের নাম, ১৯৬৬ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ের ভোটার তালিকা, ১৯৭৩ সালের জমির দলিল, স্কুলের শংসাপত্র, প্যান কার্ড, ইলেক্টরস ফটো আইডেন্টিটি কার্ড (EPIC)-সহ মোট ১৫টি নথি আদালতে পেশ করেন।
আবেদনকারীর দাবি ছিল, তিনি জন্মসূত্রে ভারতীয় নাগরিক। ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনের কারণে তাঁদের পরিবার একাধিকবার স্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছিল। সেই কারণেই বিভিন্ন সরকারি নথিতে ঠিকানা ও নামের বানানে সামান্য অমিল দেখা যায়। তাঁর আইনজীবী আদালতে যুক্তি দেন, এই ধরনের বানানগত অসঙ্গতি প্রশাসনিক ত্রুটির ফল এবং শুধুমাত্র এই কারণে নাগরিকত্ব অস্বীকার করা উচিত নয়।
তবে বিচারপতি কল্যাণ রায় সুরানা ও বিচারপতি শামীমা জাহানের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, শুধু নথি জমা দিলেই নাগরিকত্ব প্রমাণ হয় না। আদালতের মতে, আবেদনকারী পর্যাপ্ত ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ দিতে পারেননি যে নথিগুলিতে উল্লেখিত ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর আইনগত সম্পর্ক নির্ভুলভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করে, শুধুমাত্র মৌখিক সাক্ষ্য যথেষ্ট নয়; নথির ধারাবাহিকতা ও ব্যক্তিগত পরিচয়ের মধ্যে সুস্পষ্ট যোগসূত্র থাকা আবশ্যক।
রায়ে আদালত উল্লেখ করেছে, Foreigners Act, 1946-এর ৯ নম্বর ধারার অধীনে কোনও ব্যক্তির উপরই প্রমাণের দায় বর্তায় যে তিনি বিদেশি নন, বরং ভারতীয় নাগরিক। বিচারপতিরা বলেন, আবেদনকারী সেই আইনি দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হননি। ফলে বিদেশি ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করার মতো কোনও আইনি ত্রুটি আদালতের নজরে আসেনি।
এই রায় প্রকাশ্যে আসার পর অসমে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া, নথিপত্রের গ্রহণযোগ্যতা এবং বিদেশি ট্রাইব্যুনালের কার্যপ্রণালী নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। নাগরিকত্ব প্রমাণে দীর্ঘদিনের সরকারি নথিও কতটা যথেষ্ট— সেই প্রশ্ন আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

