নয়াদিল্লি, ২৪ জুলাই: রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তর এবং তার আশেপাশের এলাকায় আকস্মিক মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে চরম আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিক্ষোভ চলাকালীন কেন্দ্র সরকারের জারি করা এই ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দিল্লি হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের করা হয়েছে। মামলার গুরুত্ব ও জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনা করে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ও বিচারপতি তেজস কারিয়ার নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ আজই এই বিষয়ে বিশেষ শুনানি গ্রহণ করতে সম্মত হয়েছে। আইনি সংবাদ মাধ্যম ‘বার অ্যান্ড বেঞ্চ’ (Bar and Bench)-এর বিশেষ প্রতিবেদনে এই খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
সম্প্রতি নিট-ইউজি (NEET-UG 2026) সহ একাধিক জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস কাণ্ডকে ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজনীতি। এই ধারাবাহিক অনিয়মের প্রতিবাদে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তুলেছে তরুণ ও শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)।
প্রতিবাদ-বিক্ষোভ এবং সংসদ ভবন অভিমুখে আন্দোলনকারীদের পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দোহাই দিয়ে যন্তর মন্তরের চারপাশের প্রায় ১.৫ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা পুরোপুরি স্তব্ধ করে দেওয়া হয়। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, ভুয়ো খবর ছড়ানো এবং সহিংসতা এড়াতে আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবেই এই পরিষেবা স্থগিতের নির্দেশ জারি করেছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও টেলিকম নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
সরকারের এই ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশকে বেআইনি ও মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে শুক্রবার সকালে দিল্লি হাইকোর্টে জরুরি ভিত্তিতে একটি জনস্বার্থ মামলা পেশ করেন আবেদনকারীর আইনজীবী। প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার এজলাসে বিষয়টি উত্থাপন করে আইনজীবী দ্রুত শুনানির আরজি জানান।
আদালতে সওয়াল চলাকালীন আইনজীবী বলেন, “যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কণ্ঠ রুদ্ধ করতেই বেআইনিভাবে ইন্টারনেট পরিষেবা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিকদের চরম হয়রানির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।” পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ আবেদনটি দ্রুত তালিকাভুক্ত করে সকালেই শুনানির আশ্বাস দিয়েছেন।
প্রতিবাদ চলাকালীন ১.৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করার এই সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিভিন্ন ডিজিটাল রাইটস (Digital Rights) ও মানবাধিকার সংগঠন। তাদের মতে, সংবিধানে প্রদত্ত বাক-স্বাধীনতা এবং অবাধ তথ্য আদান-প্রদানের অধিকারকে দমন করতেই এই ধরণের প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করা হচ্ছে।
আন্দোলনকারীদের দাবি, শান্তিপূণ আন্দোলন বানচাল করতে ও শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের পদক্ষেপের খবর যাতে বাইরে না ছড়ায়, সেই লক্ষ্যেই কেন্দ্রীয় সরকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তথ্যপ্রবাহ আটকে দেওয়ার কৌশল নিয়েছে। দিল্লি হাইকোর্টের আজকের এই শুনানির দিকেই এখন নজর আটকে রয়েছে শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সমগ্র দেশের আইনি মহলের।
বাংলাকাল-কে ফলো করুন
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
