রায়পুর, ১৯ আগস্ট:
ছত্তীসগঢ়ের রাজধানী রায়পুরে নিজের নাবালিকা কন্যাকে লাগাতার ধর্ষণ ও গর্ভবতী করার অভিযোগে বাবাকে গ্রেফতার করল পুলিশ।শুধু তাই নয়, ভুয়ো পরিচয়পত্র দেখিয়ে ওই কিশোরীকে প্রাপ্তবয়স্ক ও বিবাহিত সাজিয়ে হাসপাতালে প্রসব করানো হয় এবং প্রসবের পর নবজাতক পুত্রসন্তানটিকে অন্য এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।এই ঘটনায় নির্যাতিতার বাবা, পিসি ও নার্স-সহ মোট আটজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালে কিশোরীর মা স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে আলাদা থাকতে শুরু করেন এবং তিন মেয়েকে বাবার কাছে রেখে যান।অভিযোগ, ২০২৩ সালে নিউ রাজেন্দ্র নগর থানা এলাকার একটি বাড়িতে ৩৮ বছর বয়সি ওই ব্যক্তি নিজের বড় মেয়েকে ধর্ষণ করে এবং কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।এর পর লাগাতার যৌন নির্যাতনের ফলে কিশোরী প্রথমবার অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।বিষয়টি কিশোরী তার পিসিকে জানালে, পিসি বাবার হাতে ওষুধ এনে দেয় এবং নাবালিকাকে জোর করে গর্ভপাতের ওষুধ খাইয়ে গর্ভপাত ঘটানো হয়।
এর পরেও যৌন নির্যাতন অব্যাহত থাকে এবং ২০২৫ সালে কিশোরী আবারও গর্ভবতী হয়ে পড়ে।তখন অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে বর্ষা মণ্ডল নামের এক নার্সের কাছে নিয়ে যায়।ওই নার্স নাবালিকাকে গীতা রাই নামে আরেক পরিচিত নার্সের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়, যেখানে কিশোরী প্রায় দুই মাস কাটায়।সেখানে কিশোরীর আসল বয়স গোপন করে জাল আধার কার্ডের সাহায্যে প্রাপ্তবয়স্ক ও বিবাহিত পরিচয় দিয়ে রায়পুরের ডানগানিয়া এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।সেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেয় কিশোরী।
প্রসবের পর অভিযুক্ত বাবা, চিকিৎসক ও অন্যান্যদের যোগসাজশে সদ্যোজাত শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়া হয় বলে পুলিশের অভিযোগ।প্রসবের পর আরও প্রায় ১৫ দিন তাকে নার্সের বাড়িতে রেখে পরে নিজের বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যায় বাবা।এরপর কিশোরী সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে তার মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুরো ঘটনার কথা জানায়।গত সোমবার মা ও মেয়ে নিউ রাজেন্দ্র নগর থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারা, পকসো আইন এবং জুভেনাইল জাস্টিস অ্যাক্টের আওতায় মামলা রুজু করা হয়েছে।ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নির্যাতিতার বাবা, পিসি, রোহিত কুমার রাই, তার স্ত্রী গীতা রাই, হাসপাতালের সুপারভাইজার সাহেব মণ্ডল, তার স্ত্রী বর্ষা মণ্ডল, শিশুটিকে কেনা ব্যক্তি এবং অপর এক মহিলাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।এই ঘটনায় আর কেউ যুক্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিস্তারিত তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

