লখনউ, ২৩ আগস্ট:
জাতিভিত্তিক সংরক্ষণের পরিবর্তে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক মানদণ্ডে সংরক্ষণের দাবিকে সম্পূর্ণভাবে দেশের স্বার্থবিরোধী বলে আখ্যা দিলেন বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি)-র প্রধান মায়াবতী।উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, তফশিলি জাতি (এসসি), তফশিলি উপজাতি (এসটি) এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির (ওবিসি) জন্য সংবিধানে যে সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, তার মূল উদ্দেশ্য ছিল শতাব্দী প্রাচীন বৈষম্য ও বঞ্চনার অবসান ঘটানো।একটি সমতাভিত্তিক সমাজ ও মর্যাদাশীল দেশ গঠনের সাংবিধানিক উদ্দেশ্যকে আঘাত করে এমন কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য তিনি সংরক্ষণবিরোধীদের প্রতি আহ্বান জানান।
সম্প্রতি দিল্লির যন্তরমন্তরে সামাজিক মাধ্যমে একত্রিত হয়ে সংরক্ষণবিরোধী বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছিলেন বেশ কিছু আন্দোলনকারী।তাঁদের দাবি ছিল, সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে জাতির বদলে অর্থনৈতিক মানদণ্ডকে অগ্রাধিকার দেওয়া হোক।সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে মায়াবতী অভিযোগ করেন, রাহুল গান্ধী কিংবা কংগ্রেসের কোনো নেতাই সেখানে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারীদের সামনে তাঁদের অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করেননি।তাঁর মতে, এই নীরবতাই অনগ্রসর শ্রেণিগুলির প্রতি কংগ্রেসের সংরক্ষণবিরোধী মানসিকতা প্রকাশ করে।
সংবিধান প্রণেতা বি আর আম্বেদকরের বার্তা তুলে ধরে মায়াবতী বলেন, জাতপাত বর্জন করাই হলো সর্বশ্রেষ্ঠ দেশপ্রেম।তিনি উল্লেখ করেন, দারিদ্র্য দূরীকরণে কেন্দ্র ও বিভিন্ন রাজ্য সরকার বিপুল অর্থ ব্যয় করছে।কিন্তু প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং দুর্নীতির কারণে প্রান্তিক মানুষ সেই সুবিধার সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা সামগ্রিক শাসনব্যবস্থার একটি বড় ব্যর্থতা।
বিএসপি সুপ্রিমো আরও বলেন, দেশে ইতিমধ্যেই অর্থনৈতিক ভিত্তিতে সংরক্ষণের ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে।তবে উচ্চবর্ণের দরিদ্র পরিবারগুলিও এর যথাযথ সুবিধা পাচ্ছে না এবং এই পরিকাঠামো মূলত অপ্রতুল প্রমাণিত হয়েছে।দুর্নীতি ও জাতিবাদী মানসিকতার কারণে সংরক্ষণের সাংবিধানিক অধিকারগুলো সমভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না।স্বাধীনতার এত বছর পরেও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে দারিদ্র্য ও বৈষম্যের সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে।তিনি সরকারকে সংরক্ষণবিরোধীদের কোনো ধরনের রাজনৈতিক আশ্রয় বা প্রশ্রয় না দেওয়ার অনুরোধ জানান এবং এই সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে কোনো পক্ষকেই সস্তা রাজনীতি না করার আর্জি জানান।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

