নয়াদিল্লি, ২৪ জুলাই: দেশজুড়ে চলা নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং বেনিয়ম বিতর্কের আবহে আচমকাই বড়সড় প্রশাসনিক রদবদল করল কেন্দ্র সরকার। বৃহস্পতিবার, শিক্ষা মন্ত্রকের শীর্ষ স্তরে রদবদল-সহ বিভিন্ন মন্ত্রক ও দপ্তরে মোট ১৩ জন সচিব পর্যায়ের উচ্চপদস্থ আমলাকে বদলি বা নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষা মন্ত্রক থেকে উচ্চশিক্ষা দপ্তরের সচিবকে সরিয়ে দেওয়ার এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিয়োগ সংক্রান্ত কমিটির (ACC) জারি করা নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, শিক্ষা মন্ত্রকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। রাজস্থান ক্যাডারের ১৯৯৪ ব্যাচের সিনিয়র আইএএস (IAS) অফিসার নরেশ পাল গাংওয়ারকে উচ্চশিক্ষা দপ্তরের নতুন সচিব হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি এতদিন মৎস্য, পশুপালন এবং দুগ্ধ মন্ত্রকের অধীনে পশুপালন ও দুগ্ধ দপ্তরের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। উচ্চশিক্ষা দপ্তরে তিনি বিনীত জোশীর স্থলাভিষিক্ত হলেন। মণিপুর ক্যাডারের ১৯৯২ ব্যাচের আইএএস আধিকারিক বিনীত জোশীকে এই পদ থেকে সরিয়ে পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রকের সচিব হিসেবে নতুন করে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, স্কুল শিক্ষা ও সাক্ষরতা দপ্তরেও উল্লেখযোগ্য বদল আনা হয়েছে। কর্নাটক ক্যাডারের ১৯৯৬ ব্যাচের আইএএস আধিকারিক টি কে অনিল কুমারকে স্কুল শিক্ষা দপ্তরের নতুন সচিব পদে বসিয়েছে কেন্দ্র। অনিল কুমার এর আগে গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
উচ্চশিক্ষা দপ্তরের নবনিযুক্ত সচিব নরেশ পাল গাংওয়ার পেশাগত প্রশিক্ষণের দিক থেকে মূলত একজন ইঞ্জিনিয়ার। তিনি রুরকি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিষয়ে বি.টেক (BTech) এবং আইআইটি (IIT) দিল্লি থেকে কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং-এ এম.টেক (MTech) সম্পন্ন করেছেন। এছাড়া রাজস্থান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে তাঁর স্নাতকোত্তর বা এম.এ (MA) ডিগ্রিও রয়েছে। রাজস্থান রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। তিনি পূর্বে রাজস্থানের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি এবং কেন্দ্রের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রকের যুগ্ম সচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদও অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সামলেছেন।
শিক্ষা মন্ত্রকের পাশাপাশি আরও একাধিক মন্ত্রক ও দপ্তরে রদবদল করা হয়েছে। কাতিকিথালা শ্রীনিবাসকে আবাসন ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রক থেকে সরিয়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রকের দায়িত্বে পাঠানো হয়েছে। খনি মন্ত্রকের সচিব পীযূষ গোয়েলকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের (NHRC) সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে বদলি করা হয়েছে এবং খনি মন্ত্রকের নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করছেন কেশব চন্দ্র।
গাংওয়ারের ছেড়ে আসা পশুপালন ও দুগ্ধ দপ্তরে সুশীল কুমার লোহানিকে আপাতত অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি (OSD) হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। পরবর্তীতে তিনি ওই দপ্তরের সচিব হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেবেন। এছাড়া, আবাসন ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের (ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্ট) দায়িত্ব পেয়েছেন ডি. থারা, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রকে চন্দ্র ভূষণ কুমার, নগরোন্নয়ন মন্ত্রকে সত্যেন্দ্র সিং এবং জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশনে সুচিন্দ্র মিশ্রকে নিযুক্ত করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি, চারজন উচ্চপদস্থ আধিকারিকের পদমর্যাদা ইন-সিটু (in-situ) প্রক্রিয়ায় বাড়িয়ে স্পেশাল সেক্রেটারি (সচিব-স্তরের বেতন কাঠামো-সহ) র্যাঙ্কে উন্নীত করা হয়েছে। এই আধিকারিকরা হলেন— ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেল (RGI) মৃত্যুঞ্জয় কুমার নারায়ণ, ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটির (NHAI) চেয়ারম্যান সন্তোষ কুমার যাদব, নীতি আয়োগের উপদেষ্টা রাজীব সিং ঠাকুর এবং স্কিল ডেভলপমেন্টের ডিজি ট্রেনিং দিলীপ কুমার।
সরকারি নির্দেশিকায় এই ব্যাপক প্রশাসনিক রদবদলের পেছনে কোনো নির্দিষ্ট কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে উল্লেখ করা হয়নি। তবে, এই রদবদল এমন এক সময়ে ঘটল যখন নিট (NEET) পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে সিজেপি (CJP) এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা দেশজুড়ে লাগাতার প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন। পরীক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং দ্রুত সংস্কারের দাবিতে উত্তাল গোটা দেশ। ঠিক এই আবহে শিক্ষা মন্ত্রকের শীর্ষ আমলাদের পরিবর্তন করার ঘটনাটি সরকারের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাকাল-কে ফলো করুন
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
