নয়াদিল্লি, ২৪ জুলাই: ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের মোট সম্পত্তির পরিমাণ কত? নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা এবং সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ও তাঁর পরিবারের মোট ঘোষিত সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৬.৯২ কোটি টাকা। সম্প্রতি নিট (NEET) পরীক্ষা সংক্রান্ত বিতর্ক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক আলোড়নের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর এই স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির হিসাব সাধারণ মানুষের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেও ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ওড়িশার সম্বলপুর কেন্দ্র থেকে জয়ের মুখ দেখা ধর্মেন্দ্র প্রধান নির্বাচনী হলফনামায় তাঁর আয়ের সবিস্তার তথ্য তুলে ধরেছেন। ২০২২-২৩ আর্থিক বছরে ধর্মেন্দ্র প্রধানের নিজস্ব বার্ষিক আয় ছিল ১২.৭৫ লক্ষ টাকা। অপরদিকে, তাঁর স্ত্রী মৃদুল ঠাকুরের একই আর্থিক বছরে আয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪৯.৯২ লক্ষ টাকা।
নগদ অর্থের দিক থেকে দেখতে গেলে, মন্ত্রীর কাছে হাতে থাকা নগদ টাকার পরিমাণ খুবই সামান্য। হলফনামা অনুসারে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের হাতে নগদ রয়েছে মাত্র ৩৫,০০০ টাকা। তাঁর স্ত্রী মৃদুল ঠাকুরের কাছে ৪০,০০০ টাকা, ছেলে ও মেয়ের কাছে যথাক্রমে ১০,০০০ টাকা এবং ৭,০০০ টাকা নগদ রয়েছে। অর্থাৎ পুরো পরিবারের কাছে মিলিয়ে নগদ অর্থের পরিমাণ প্রায় ৯২,০০০ টাকা।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর আর্থিক সম্পদের একটি সিংহভাগ রয়েছে ব্যাংক আমানত, পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড (PPF) এবং বিভিন্ন আর্থিক সঞ্চয়ে। ধর্মেন্দ্র প্রধান ও তাঁর পরিবারের বিভিন্ন ব্যাংকে গচ্ছিত আমানত, পিপিএফ এবং ফিক্সড ডিপোজিটের মোট পরিমাণ প্রায় ২.৪৭ কোটি টাকা। তিনি ৮০.৪০ লক্ষ টাকার মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করেছেন। পাশাপাশি, বিভিন্ন জীবনবিমা পলিসিতে তাঁর ৬৭.৭২ লক্ষ টাকা গচ্ছিত রয়েছে।
অলংকার ও মূল্যবান ধাতুর ক্ষেত্রেও প্রধান পরিবারের উল্লেখ্য সম্পদ রয়েছে। ধর্মেন্দ্র প্রধানের নিজের কাছে রয়েছে ২০০ গ্রাম সোনা এবং ২.৫ কেজি রূপো, যার বর্তমান আনুমানিক বাজারমূল্য ১৩.৫ লক্ষ টাকা। এছাড়া ২ লক্ষ টাকা মূল্যের একটি কম্পিউটার এবং প্রায় ৪ লক্ষ টাকা মূল্যের গৃহস্থালি সামগ্রী ও আসবাবপত্র রয়েছে। তাঁর স্ত্রী মৃদুল ঠাকুরের নামে রয়েছে ৫০০ গ্রাম সোনা এবং ১০ কেজি রূপো, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা। শিক্ষামন্ত্রীর নিজের ব্যবহারে একটি ২০১১ সালের মডেলের হোন্ডা সিটি (Honda City) গাড়ি রয়েছে। তবে তাঁর স্ত্রীর নামে কয়েকটি বাণিজ্যিক যানবাহন রয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে।
স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে ওড়িশা ও উত্তরপ্রদেশে জমি এবং আবাসন রয়েছে মন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রীর নামে। ওড়িশায় ধর্মেন্দ্র প্রধানের ১২ লক্ষ টাকা মূল্যের কৃষিজমি এবং ২০.৫০ লক্ষ টাকা মূল্যের অকৃষিজমি বা প্লট রয়েছে। মন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রীর যৌথ ও একক মালিকানায় প্রায় ১.৯৮ কোটি টাকার আবাসিক সম্পত্তি রয়েছে। এর মধ্যে উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের ইন্দিরাপুরমে একটি ফ্ল্যাট এবং ওড়িশার ভুবনেশ্বরে একটি বসতবাড়ি অন্তর্ভুক্ত।
সম্পত্তির পাশাপাশি মন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের ওপর দায়বদ্ধতা বা ঋণের পরিমাণের উল্লেখও রয়েছে হলফনামায়। পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক এবং আইডিবিআই ব্যাংক থেকে তাঁর ও পরিবারের প্রায় ৩১.৩৮ লক্ষ টাকার ব্যাংক ঋণ রয়েছে। ধর্মেন্দ্র প্রধান তাঁর স্ত্রী মৃদুল ঠাকুরকে ১০ লক্ষ টাকা, পিতা ড. দেবেন্দ্রে প্রধানকে ৫ লক্ষ টাকা এবং অন্যান্য নিকটাত্মীয়দের আরও ৭ লক্ষ টাকা (মোট ২২ লক্ষ টাকা) ব্যক্তিগত ঋণ হিসেবে দিয়েছেন। সব মিলিয়ে তাঁর ঘোষিত ঋণের পরিমাণ প্রায় ৫৩.৩৮ লক্ষ টাকা (যদিও সার্বিক পারিবারিক দেনা হিসাব করলে তা প্রায় ২.৩০ কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছায়)। সার্বিকভাবে, ভারতীয় রাজনীতিতে স্বচ্ছতা বজায় রাখার স্বার্থে নির্বাচন কমিশনের নিয়মানুযায়ী দাখিল করা এই হলফনামাই ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের মোট সম্পত্তির প্রামাণ্য হিসাব দেয়।
বাংলাকাল-কে ফলো করুন
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
